চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ৬ মার্চ ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্থলবন্দরে পাল্টে যাবে অর্থনীতি; চুয়াডাঙ্গার প্রত্যাশা পূরণ হোক

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মার্চ ৬, ২০২২ ৫:০৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জেলার দর্শনা ও দৌলতগঞ্জ এতদিন ছিল ‘কাস্টমস স্টেশন’। এখন থেকে স্থলবন্দর। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা ঘোষণা করেছে। পাশের জেলা মেহেরপুরের মুজিবনগর বৈদ্যনাথতলাসহ সারা দেশে অর্ধশত স্থান এবার স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষিত হলো। চুয়াডাঙ্গাবাসী একত্রে দু’টি স্থলবন্দর পেলেন। দর্শনা ও জীবননগরে এ বন্দরদ্বয় চালু হলে সহজেই আমদানি-রফতানি করা সম্ভব হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি তাড়াতাড়ি পাল্টে যাওয়ার প্রত্যাশা করা হয়েছে। তদুপরি, সড়কপথে হ্রাস পাবে বাংলাদেশের স্থলবন্দর থেকে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব। তা ছাড়া এলাকার ‘শত শত লোকের কর্মসংস্থান’ হবে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বৃহত্তম, বেনাপোল স্থলবন্দরে চাপ কমে যাবে; তেমনি আমদানি ও রফতানিসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের লোকসান কমে আসবে নতুন নতুন স্থলবন্দরের কারণে। উল্লেখ্য, এখন যশোরের সীমান্তবর্তী বেনাপোল বন্দর দিয়ে দিনে বেশ কয়েক শ’ ট্রাক যাতায়াত করে থাকে। সেগুলোর মালামাল খালাসে লেগে যায় তিন থেকে ১৮ দিন পর্যন্ত। এতে কেবল আর্থিক ক্ষতির পরিমাণই বাড়ে। অথচ দর্শনা ও দৌলতগঞ্জ স্থলবন্দর দিয়ে অন্তত ২০০ ট্রাকের পণ্য খালাস করা সম্ভব। এ জন্যই চুয়াডাঙ্গার একজন ব্যবসায়ী নেতার বক্তব্য, ‘এ দুই বন্দর নয়া সম্ভাবনা জাগাবে। এখানে পণ্য আমদানি করতে দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা ছুটে আসবেন। এ জেলার অর্থনৈতিক দৃশ্যপট বদলে যাবে এতে।’
জানা গেছে, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় প্রায় ৯ বছর আগেই জীবননগরের দৌলতগঞ্জ শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর হিসেবে চালু করেছিল। গেজেট ছাড়াও ২০১৩ সালের ২৪ আগস্ট তৎকালীন নৌ পরিবহনমন্ত্রী বন্দরের ভিত্তিও স্থাপন করেছেন। পরের বছর ৪ জুন তিনি ও ভারতীয় হাইকমিশনার বন্দরের জন্য নির্ধারিত স্থান দেখে যান। তখন তারা বন্দরটি চালু করার ঘোষণা দিলেও সে উদ্যোগ আর কার্যকর হয়নি। অথচ এখানে সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামোর যাবতীয় সুযোগ-সুবিধাই রয়েছে। এখান থেকে ঢাকা ২৪০ কিলোমিটার দূরে হলেও ভারতীয় জাতীয় সড়ক মাত্র ৩৪ কিলোমিটার দূরবর্তী। সে দেশের জাতীয় সড়ক থেকে দেশের সব স্থানে যাওয়া সম্ভব। প্রতিবেশী দেশের সাথে বাংলাদেশের অন্য স্থলবন্দরগুলোর তুলনায় দ্রুত আমদানি ও রফতানি করা এখান দিয়ে সহজ ও অনেক সাশ্রয়ী। এ দিকে দর্শনা রেললাইন দিয়ে দু’দেশের আমদানি ও রফতানি চলে আসছে ১৯৬২ থেকে গত ৬০ বছর ধরে। দর্শনায় আগে থেকেই আছে শুল্ক স্টেশন, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রেলস্টেশন, কোয়ারেন্টিন ল্যাবরেটরিজ, ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এবং বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) অর্ধ-ডজন ক্যাম্প। দর্শনা জয়নগর স্থলবন্দরের রুট হলো, গেদে রেলপথ ও সড়ক। অবকাঠামো উন্নত না হওয়া পর্যন্ত সড়ক নয়, রেলপথে পণ্য আমদানি-রফতানির জন্য বলা হয়েছে। দৌলতগঞ্জ-মাজদিয়া রোড দিয়ে হবে জীবনগরের স্থলবন্দরটির রুট। আর ‘স্বাধীনতা সড়ক’ হচ্ছে মুজিবনগর স্থলবন্দরের রুট। বহুলালোচিত এ সড়ক হলো মেহেরপুর-মুজিবনগর-চাপড়া-কৃষ্ণনগর রুটে। কৃষ্ণনগর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি বিখ্যাত স্থান।
উল্লেখ্য, দৌলতগঞ্জ বন্দর এক যুগ চলে ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে বন্ধ হয়ে যায়। অনেক পরে বাংলাদেশের রাজস্ব বোর্ড বারবার নির্দেশ দিলেও তা চালু রাখা যায়নি। এখান দিয়ে প্রায় দেড় ডজন পণ্য আনার অনুমোদন রয়েছে। সর্বশেষ, ২০০৯ সালের ১১ জুন শুল্ক স্টেশন হিসেবে এটা ব্যবহারের জন্য সবার প্রতি প্রজ্ঞাপন জারি সত্ত্বেও তাতে ফল হয়নি। দেখার বিষয়, স্থলবন্দরের চূড়ান্ত গেজেট এবার কত দিনে কার্যকর করা হয়।
আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট সব বাধা দূর করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গৃহীত হবে যেন গণমানুষের স্থলবন্দরের আশা পূরণ করা যায়।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।