স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা খুলছে ৩০ মার্চ

30

জুলাই মাসে এসএসসি পরীক্ষা * পিইসিরা ৫ আর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ৬ দিন ক্লাস করবে, বাকিরা সপ্তাহে একদিন
সমীকরণ প্রতিবেদন:
টানা এক বছর ১৩ দিন পর খুলছে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। আগামী ৩০ মার্চ প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হবে। জুলাই মাসে নেওয়া হবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের অবশ্য এখনই ক্লাসে যেতে হবে না। অবস্থা বুঝে পরে তাদের ব্যাপারে আলাদা ঘোষণা আসবে। আর পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলবে ২৪ মে। এর এক সপ্তাহ আগে ১৭ মে খুলে দেওয়া হবে আবাসিক হলগুলো। হলে অবস্থান নির্বিঘ্ন করতে এই সময়ের মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার ছাত্রছাত্রীকে টিকা দেওয়ার কাজ শেষ করা হবে। দেশের যে কোনো টিকাদান কেন্দ্রে তারা টিকা দিতে পারবেন। আর স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা খোলার আগে শিক্ষক-কর্মচারীদের টিকা দেওয়ার কাজ শেষ করা হবে। গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। এর আগে ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ইস্যুতে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সিদ্ধান্ত অবহিত করেন। তিনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলেও এখন কেবল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বা পিইসি পরীক্ষার্থীরা সপ্তাহে ৫ দিন স্কুল-মাদ্রাসায় যাবে। এ ছাড়া দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী বা এসএসসি-দাখিল এবং এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার্থীরা সপ্তাহে ৬ দিনই স্কুলে যাবে। প্রথম থেকে চতুর্থ এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টমের শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ১ দিন করে ক্লাসে যাবে। জেএসসি পরীক্ষার্থী বা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কী করবে তা জানাননি শিক্ষামন্ত্রী। এ ব্যাপারে আজ জানা যাবে। তবে তাদেরও সপ্তাহে ৫ দিন স্কুলে আনার আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রিফিংয়ে বলেন, যেসব শ্রেণির শিক্ষার্থী এখন সপ্তাহে একদিন আসবে, অবস্থা বুঝে পরে তাদের প্রথমে ২ দিন, এরপর হয়তো প্রতিদিনই আনার সিদ্ধান্ত হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিকের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ৩০ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১৭ মে হল খুলে দেওয়ার আগে টিকা দেওয়ার কাজ শেষ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রাথমিকের দেড় লাখ শিক্ষকের টিকা দেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে। বাকিরাও দিচ্ছেন। সুরক্ষাডটকমে শিক্ষকদের যুক্ত করা হয়েছে। তারা সেখানে রেজিস্ট্রেশন করে টিকা নিতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২০ আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। গত বুধবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ৬০ এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ৮৪ কর্মদিবস ক্লাস হবে। ক্লাস যেদিন শেষ হবে তারপর দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে নেওয়া হবে পরীক্ষা। রোজা ও সাপ্তাহিক ছুটি আছে। এসব মিলে জুলাই মাসের দিকে পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার আগে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তৃণমূলের স্বাস্থ্যকর্মীরা এবং শিক্ষা প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা দিকটি নিয়মিত তদারকি করবেন। এবার পুরো রোজার মাস ছুটি থাকবে না। আমরা ছোটবেলায় কেবল ঈদের ছুটি পেয়েছি। এবারও হয়তো তেমনটিই হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এমপি এতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া এতে যোগ দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামালউদ্দিন, আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মো. কামাল হোসেন। দুই মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকরাও এতে উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট থেকে প্রায় ২ ঘণ্টা স্থায়ী হয় ওই বৈঠক। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী আজ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ ছুটি ছিল। গত ২২ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভা বৈঠকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যায় কিনা- সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ওইদিন বিকালেই হল-ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের প্রশমিত করতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এতে উল্টো ফল হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নগর-মহানগরে আন্দোলন গড়ে তোলেন শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ শনিবারও রাজশাহী, টাঙ্গাইল এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি পালন করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এই বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস করতে হবে গাইডলাইন অনুসরণ করে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে গত ২ জানুয়ারি এই গাইডলাইন দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠিয়েছে। পাওয়া যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ অনুযায়ী এই নির্দেশিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে মানববন্ধন : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া ও পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার রাজশাহী, টাঙ্গাইল ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশ নেন।