চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ৯ এপ্রিল ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্কুলছাত্রীকে পিটিয়ে আহত করলেন প্রধান শিক্ষক!

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
এপ্রিল ৯, ২০২২ ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জীবননগর অফিস:

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে স্কুলের চতুর্থ তলা ভবনে ওঠার অপরাধে ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পিটিয়ে আহত করাসহ স্কুল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গোটা এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে জীবননগর উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নের কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত স্কুলছাত্রী জীবননগর উপজেলার দেহাটি গ্রামের দিনমজুর পরিবারের সন্তান।

আহত ওই স্কুলছাত্রী অভিযোগ করে বলে, ‘বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) ক্লাস শেষে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের চতুর্থ তলায় একজন মেয়ের সাথে দেখা করতে যাই। মেয়েটি স্কুলে না আসায় আমি ওই ভবন থেকে চলে আসি। এমন সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আপনার পিছন থেকে ওড়না টান দিয়ে লাঠি দিয়ে মারতে থাকে। একপর্যায়ে আমি ফ্লোরে পড়ে গেলে ১০ম শ্রেণির ছাত্র রাসেল নামের একটি ছেলে প্রতিবাদ করে। পরে রাসেলের সাথে আমার রিলেশন আছে অপবাদ দিয়ে অনেক বাজে কথাবার্তা বলে। পরে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আ. শুকুর, মিঠু মেম্বার ও দুলাল মেম্বার স্কুলে এসে আমার বাবা-মাকে সকল শিক্ষার্থীর সামনে অপমান করে এবং আমাকে স্কুল থেকে টিসি দিবে বলে জানিয়ে দেয়।’

আহত স্কুলছাত্রীর মা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়ে কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। বৃহস্পতিবার স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে ফোন করে বলে তোমার মেয়েকে নিতে স্কুলে আসো তোমার মেয়ে স্কুলের মানসম্মান নষ্ট করেছে। আমি তার ওই কথা শুনে স্কুলে যাই। এসময় স্কুলে যেয়ে দেখি শুকুর সরকার, মিঠু মেম্বার ও দুলাল মেম্বার বসে আছে আর সেখানে আমার মেয়েকে নিয়ে অনেক মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। এরপর আমার মেয়ে কোথায় জিজ্ঞেস করতেই প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলে একটা রুমে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে যেয়ে দেখি আমার মেয়েকে এমনভাবে মারধর করেছে, সে কথা বলতে পারছে না। পরে সেখান থেকে এনে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করি। আমার মেয়ে যদি কোনো অন্যায় করে, তাহলে আমাদের বলতে পারত। এভাবে একজন শিক্ষক মারবে এটা কল্পনা করা যায় না। আমরা এর বিচার চাই।’

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, স্কুলে তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, যে কারণে স্যার তাকে এভাবে সকলের সামনে মারধর করবে। ওই ছাত্রীর ওপর হয়ত স্যারের কোনো আক্রশ ছিল, যে কারণে তাকে এভাবে অমানসিক নির্যাতন করবে।

অভিযোগ অস্বীকার করে কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার ওই স্কুলছাত্রী রাসেল নামের একটি ছেলের সাথে একই বাথরুমে রয়েছে, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আমি সেখানে যায় এবং তাদের দুজনকে হাতেনাতে ধরি। পরে তারা দুইজনই আমার ওপর চড়াও হয় এবং আমাকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় কথা বলে। তাদের দুইজনের পরিবারের অভিভাবকদের ডাকি এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের ডেকে ছেলে এবং মেয়েকে তাদের পরিবারের লোকজনের নিকট হস্তান্তর করি। তাদের মারধর কিছুই করিনি এবং তাদের যাতে পরিবারের লোকজন না মারে, সে জন্য আমরা বলে দিয়েছি। আমরা তাদের দুইজনকে ভয়ে রাখার জন্য এবং পরিস্থিতি স্বাবাভিক রাখার জন্য টিসি দেওয়ার হুমকি প্রদান করি।’

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান সুজন বলেন, গত বৃহস্পতিবার এক স্কুলছাত্রী হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাঁর শরীরে লাঠির আঘাতের চিহ্ন আছে, তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, এখন সে সুস্থ।

জীবননগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দ্বীনেশ চন্দ্র পাল বলেন, ‘কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রীকে মারধর করেনি বলে আমি জানতে পেরেছি সেখানে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। তবে এ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, স্কুলছাত্রীকে পিটিয়ে আহত করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।