চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২৫ অক্টোবর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সেচের অভাবে শুকিয়ে গেছে চুয়াডাঙ্গার পাঁচ হাজার হেক্টর ধান! কৃষকদের অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক্ষের গাফিলতির কারণে এ ক্ষতি

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ২৫, ২০১৬ ১:০২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

chuadanga dhan pic-4 chuadanga dhan pic-1নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় রোপা আমন মৌসুমে জিকে খালে পানি সরবরাহ না থাকায়, সেচ অভাবে চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা উপজেলার অর্ধশত গ্রামের কৃষকের  প্রায় ৫ হাজার হেক্টর  রোপা আমন ধান শুকিয়ে গেছে।
কৃষকরা তাদের মাঠের শুকিয়ে যাওয়া  ধান এখন গো-খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করছেন। এতে কৃষকরা প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লোকসানের শিকার হয়েছেন বলে তারা জানিয়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের  গাফিলতির কারণে  কৃষকরা এই ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের  দাবী, খাল ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে টেন্ডারের মাধ্যমে খাল মেরামতে দেরি হয়েছে । তবে, খুব শীঘ্রই কৃষকরা সেচের পানি পাবেন। কিন্তু  এসময় খালে পানি ছাড়লেও কৃষকদের লোকসান ঠেকানো সম্ভব হবে না।
সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায়, আলমডাঙ্গার প্রধান জিকে ক্যানালের চেম্বার ক্যানালের কাশিপুর গ্রামের কাছে এক অংশ ভেঙ্গে পাশের মাঠের সাথে মিশে যায়।
ফলে, চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার মোমিনপুর, আলমডাঙ্গার নাগদহ, আইলহাস, খাসকররা ও কুতুবপুরসহ আশেপাশের একাধিক ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত গ্রামের কৃষকরা তাদের ধানের জমিতে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
সেচ খাল ভেঙ্গে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তড়িৎ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায়, ঐ এলাকার মাঠের ধান শুকিয়ে গেছে। এ কারণে কৃষকদেরকে বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার লোকসান গুনতে হবে।
ভূক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছরই সেচ সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু  একাধারে ৪ মাস সেচ বন্ধ এই প্রথম ।
গত আষাঢ় মাসে  কৃষকরা তাদের জমিতে ধান লাগানোর ১৫ দিনের মাথায়  সেচ বন্ধ হওয়ায়  কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ ঘটনার পর, পর এলাকাবাসী পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষর দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।
তবে,  শেষ পর্যন্তও যদি  পানি উন্নয়ন বোর্ড  ক্যানালে পানি ছাড়ে  তাতেও কৃষকদের খুব একটা যে লাভ হবে তা নয়। কারণ ধান যা মরার তা মরে গেছে।
তবে কেউ, কেউ জানান, এই মুহুর্তেও যদি সেচ খালে পানি সরবরাহ করা হয় তাহলে জমি থেকে বীজটা ধানের খরচটাও উঠতে পারে ।
এদিকে, দেখা যায়  জমিতে সেচের ব্যবস্থা না হওয়ায় শুকিয়ে যাওয়া কষ্টের ফসল ফলন্ত ধান জমি থেকে কেটে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছে এবং শুকিয়ে যাওয়া ধান কেটে ঐ জমিতে ভূট্টা লাগানোর জন্য জমি প্রস্তুত করছে।
গ্রামবাসীদের দাবী এ সমস্যা যেন আগামী বছর না হয় সেই জন্য ভূক্তভোগী কৃষকরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে  চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাব এ্যাসিসটেন্ট ইঞ্জিয়ার, রোকুনুজ্জামান জানান, টেন্ডার  কল ও ওয়ার্ক অডার পেতে দেরী হওয়ায় সেচ খালে পানি দেওয়া সম্ভব হয়নি। খালের ভাঙ্গা অংশ মেরামত করা হয়েছে দ্রুতই পানি সরবরাহ করা হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।