সেই নাঈম পাচ্ছে ৫ হাজার ডলার পুরস্কার

274

সমীকরণ প্রতিবেদন:
বনানীর এফআর টাওয়ারের ভেতর তখন দাউ দাউ জ্বলছে আগুন। ধোঁয়ার ভেতর আটকেপড়া লোকজন বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন চিৎকার করে কিংবা হাতের ইশারায়। টিকতে না পেরে কেউ কেউ ভবন থেকে লাফ দিয়ে পড়ছে নিচে। এসব দৃশ্য দেখে মানবতার সেবায় নেমে পড়া নাঈম নামের সেই ছেলেটির কথা এখনো মানুষের মুখে মুখে। মুখে অসহায়ত্বের ছাপ নিয়ে উৎকণ্ঠিত ব্যাকুল শিশুটির ছবি ছাপা হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে। তাকে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক বাংলাদেশি। ওমর ফারুক সামি নামের ওই প্রবাসী নাঈমকে পাঁচ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। অগ্নিকা-ের ঘটনায় বেশির ভাগ মানুষ যখন দর্শনার্থী হয়ে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিল, শিশু নাঈম ইসলাম তখন নেমে পড়ে উদ্ধার কাজে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত ফায়ার সার্ভিসের একটি পাইপের ছিদ্র দুই হাতে চেপে ধরে আছে শিশু নাঈম। পাইপ দিয়ে যাওয়া পানি যেন ছিদ্র দিয়ে যেন বেরিয়ে না যায় সে জন্য ছোট দুই হাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালায় সে। নাঈমকে পুরস্কারের পাশাপাশি তার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সামি।সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ওমর ফারুক সামি বলেন, ‘মানুষের প্রতি নাঈমের ভালোবাসা দেখে আমি খুবই খুশি হয়েছি। নাঈম খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করছে। সে পুলিশ অফিসার হতে চায়। তার ইচ্ছে পূরণ করতে আজ থেকে তার পড়ালেখার দায়িত্ব নিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে তার উপহারের পাঁচ হাজার ডলারও প্রদান করব।’ রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করে নাঈম। ব্র্যাকের আনন্দ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে সে। তার বাবা একজন ডাব বিক্রেতা, আর মা গৃহকর্মী।