সুস্বাদু ও বেশি লাভ হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

14

জীবননগরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে ব্লাকবেরী ও গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ
মিঠুন মাহমুদ/ বদরুজ্জামান শ্যামল:
জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের কন্দর্পপুর গ্রামের টিটু মিয়া গত বছর পরীক্ষামূলক ব্লাকবেরি ও গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষ করে সফলতার পর এবার বাণিজ্যিকভাবে ব্লাকবেরি ও গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষ করে সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। ইউটিউবে ভিডিও দেখে তিনি এ জাতের ফল চাষে আগ্রহী হন। পরে তিনি স্থানীয় কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাষের নিয়ম-কানুন জেনে নেন। এ বছর তিনি দুই বিঘা জমিতে গোল্ডেন ক্রাউন ও ব্লাকবেরি তরমুজের আবাদ তাঁকে সফলতা এনে দিয়েছে।
তরমুজ চাষি টিটু মিয়া বলেন, ‘প্রথমে জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ সংগ্রহ করি এবং পরামর্শ গ্রহণ করি। পরে মাচা তৈরি, বেড স্থাপন ও ফুল থেকে তরমুজ বের হওয়ার পর জালের ব্যাগ বেধে দেওয়া হয়। তিন মাসের মধ্যেই ফলন শুরু হয়। দুই বিঘা জমিতে তরমুজ চাষে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে দ্বিগুন লাভ করতে পারব।’ তবে সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে আরও বেশি তরমুজ চাষ করবেন বলে কৃষক টিটু মিয়া জানান। ইতোমধ্যেই তাঁর কাছ থেকে প্রতিবেশীরা ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষকেরা পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা নিতে আসছেন বলেও জানান। প্রতিদিন তাঁর আবাদি জমি থেকে ভোক্তরা প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। একেকটি তরমুজের ওজন অন্তত ৩ কেজি।
এদিকে টিটু মিয়ার তরমুজ চাষে সফলতার কথা শুনে অনেক তরুণ বেকার যুবকরা ব্লাকবেরি ও গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে জমিতে আসছেন এবং আগামী মৌসুমে এ নতুন জাতের তরমুজ চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্থানীয় কৃষক আতিয়ার রহমান বলেন, জীবননগরের মাটি সব ফসলের জন্য উপযুক্ত। এখানে ব্লাকবেরি ও গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজের আশানুরুপ ফলন হবে, এটা অবিশ্বাস্য ছিল। কৃষক টিটু মিয়া তা বিশ্বাসযোগ্য করে দেখিয়েছেন।
জীবননগর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের কন্দর্পপুর গ্রামের টিটু মিয়া ও মনোহরপুর ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম পরীক্ষামূলকভাবে ব্লাকবেরিী ও গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজের চাষ শুরু করেন। বর্তমানে এটি চাষে কৃষকরা অনেক উৎসাহিত হচ্ছেন। জীবননগর উপজেলায় এ বছর ১০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে গোল্ডেন ক্রাউন দুই বিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে।
জীবননগর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শিমুল হোসেন বলেন, জীবননগর উপজেলায় দুটি জাতের তরমুজ চাষ হচ্ছে। একটি ব্লাকবেরি যার গায়ের অংশ কালো, কিন্তু ভেতরে লাল। অন্যটি গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ। যেটির গায়ে হলুদ, কিন্তু ভিতরে লাল। এ দুটি জাতের তরমুজ আমাদের দেশে নতুন। স্বাভাবিক মৌসুমে উৎপাদনের পাশাপাশি অফ সিজনেও এটা চাষ করা যায়। তখন এর দাম আরও বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যারা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এটি চাষ করতে চান, তাঁদের জন্য কৃষি বিভাগ সব ধরনের সহায়তা করবে। আশা করা হচ্ছে, আগামীতে এর চাষ জীবননগর উপজেলায় আরও বৃদ্ধি পাবে।