চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২৪ নভেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুইডেন ভিত্তিক আইডিইএ-এর প্রতিবেদন : বিশ্বে স্বৈরাচার বৃদ্ধিতে ঝড়ের মুখে গণতন্ত্র

২০১৪ থেকে বাংলাদেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন চলছে
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
নভেম্বর ২৪, ২০২১ ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সুইডেন-ভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড ইলেক্ট্রোরাল অ্যাসিস্ট্যান্সের (আইডিইএ) এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে কর্তৃত্ববাদী শাসনা চলছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে কর্তৃত্ববাদী শাসন চলছে। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে দুর্বল গণতন্ত্র ছিল। বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের বিকাশ নিয়ে কাজ করা সংস্থাটি গত সোমবার গণতন্ত্রের বৈশ্বিক পরিস্থিতি-২০২১’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করেছে।

আইডিইএ বলেছে, বিশ্বের স্বৈরতান্ত্রিক সরকারগুলো আগের চেয়ে বেশি মাত্রায় নিপীড়নের পথ বেছে নিচ্ছে। কিছু কিছু দেশে স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের অধীনে নিয়মিত নির্বাচন হচ্ছে, যা মোটেই স্বাধীন, অংশগ্রহণমূলক ও অনিয়মমুক্ত নয়। এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের নাম বলা যেতে পারে। এতে বলা হয়, করোনা মহামারীর সময়ে সরকারের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমের সক্ষমতা দুর্বল করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে লিখতে গিয়ে যেসব দেশে গণমাধ্যমকর্মীরা আটক ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (ডিএসএ) ব্যবহারকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সমালোচনাকে মিথ্যা তথ্য হিসেবে দাবি করে সরকার গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তিকে মহামারীর শুরুতে আটক করেছিল। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা ছিল, করোনা মোকাবেলার নামে তাকে জায়েজ করা হয়েছে। করোনাকালে বাংলাদেশে ব্যাপক মাত্রায় ও সঙ্ঘবদ্ধ দুর্নীতি হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ঘাটতির বিষয়টি জনসমক্ষে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে গণতান্ত্রিক শাসনের ক্ষেত্রে দেশগুলো কেমন করছে, তা নিয়ে পাঁচটি শ্রেণিবিভাজন করা হয়। এগুলো হলো- গণতন্ত্রের সূচকে সবচেয়ে ভালো, মধ্যম মানের গণতন্ত্র, দুর্বল গণতন্ত্র, হাইব্রিড সরকার ও স্বৈরতান্ত্রিক সরকার। এ তালিকায় বাংলাদেশকে স্বৈরতান্ত্রিক দেশের শ্রেণীতে রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র শীর্ষ সামনে রেখে আইডিইএ’র এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ৯ ও ১০ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ১০০টির বেশি দেশ অংশ নেবে। তবে সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। প্রতিবেদনটি ২৮টি সূচক আর পাঁচটি বিস্তৃত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হচ্ছে। এতে নিরপেক্ষ প্রশাসন সূচকে বাংলাদেশের স্কোর সর্বনিম্ন। প্রতিনিধিত্বমুলক সরকারের সূচকেও নিম্ন অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার, নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ এবং নাগরিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে মধ্যম পর্যায়ে আছে বাংলাদেশ। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর বেশি উপরে। সংস্থাটি বাংলাদেশে মৌলিক অধিকার আছে কি না, তা খতিয়ে দেখেছে। এই মধ্যে মৌলিক অধিকার, বিচার পাওয়ার অধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা ৫৬, সামাজিক অধিকার এবং সমতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশে গণধ্যমকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির কথা বলা হয়েছে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারীর মধ্যে বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক দেশ ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী কৌশল অনুসরণ করছে। অন্য দিকে কর্তৃত্ববাদী শাসকরা নিজেদের ক্ষমতা আরো সুসংহত করছে। গণতন্ত্র থেকে পিছু হটার তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের নাম উঠেছে। গণতন্ত্রের ক্ষয় শুরু হয়েছে, ভারতেও। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোর রাজনীতিতে সামরিক বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর প্রথমবারের মতো গণতন্ত্র থেকে পিছু হটা দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তথ্য-উপাত্ত বলছে, ২০১৯ সাল থেকেই গণতন্ত্র থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পিছু হটা শুরু হয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানানোকে যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক যাত্রা থেকে পিছিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক । ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ট্রাম্প ও মিত্রদের উসকানিতে তাদের সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটল হিলে আক্রমণ করে। যুক্তরাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির দৃশ্যমান অবনতিকে অন্যতম উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আইডিইএ মহাসচিব কেভিন ক্যাসাস-জামোরা।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বের অনেক দেশ কর্তৃত্ববাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আর প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রের দেশগুলোও এখন যতটা হুমকির মুখে রয়েছে, আগে ততটা বেশি ছিল না। গত এক দশকে বিশ্বে গণতন্ত্র থেকে পিছু হটা দেশের সংখ্যা -দ্বিগুণ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও স্লোভেনিয়ার মতো দেশে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গত বছর গণতন্ত্র থেকে পিছু হটা দেশগুলোর তালিকায় ছিল ইউক্রেন ও উত্তর মেসিডোনিয়া। ওই দেশ দু’টির গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এবারের প্রতিবেদনে তাদের নাম পিছু হটা দেশের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই মহাদেশে কর্তৃবাদী শাসন বাড়ছে। আফগানিস্তান, হংকং ও মিয়ানমারে এর প্রভাব পড়ছে। ভারত, ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায় উগ্র জাতীয়তাবাদ ও রাজনীতির সামরিকীকরণসহ এই অঞ্চলে গণতান্ত্রিক অবক্ষয় হয়েছে। বিভিন্ন দেশে চীনের প্রভাবে স্বৈরাচারীরা আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এতে গণতন্ত্র বুঝুঁকিতে পড়ছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।