চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ৫ জুন ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সীমান্ত এলাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুন ৫, ২০২১ ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আইইডিসিআরের গবেষণায় তথ্য : সংক্রমণের ৮০ ভাগই ‘ভারতীয় ধরন’
সমীকরণ প্রতিবেদন:
করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরনের সংক্রমণ সীমান্তবর্তী জেলার বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে সংক্রমণের ৮০ শতাংশই এখন ভারতীয় ধরন বলে সরকারের একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে। এ ধরনটির গোষ্ঠী সংক্রমণের (কমিউনিটি ট্রান্সমিশন) প্রমাণও পাওয়া গেছে। পাশাপাশি অজানা একটি ধরনও (ভ্যারিয়েন্ট) শনাক্ত হয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভস (আইডিএস এইচআই) করোনভাইরাসের ৫০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করে এ তথ্য পেয়েছে।
যৌথ এ গবেষণায় সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর বাইরে ঢাকা, খুলনা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, পিরোজপুর ও গাইবান্ধায় ভারতীয় ধরন হিসেবে পরিচিত ডেলটা ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীর বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস নেই। এ ঘটনায় করোনার সংক্রমণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ল। গত ৮ মে ভারত থেকে আসা তিন বাংলাদেশির শরীরে করোনার ভারতীয় নতুন ধরন শনাক্তের খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। গত ২৪ মে ওই জেলায় লকডাউন ঘোষণা করে স্থানীয় প্রশাসন।
দুই সপ্তাহ ধরে সীমান্তবর্তী সাতটি জেলায় সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই নাজুক হতে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্যবিদদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি সীমান্তবর্তী সাত জেলা নওগাঁ, নাটোর, সাতক্ষীরা, যশোর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও খুলনায় কঠোর লকডাউনের আওতায় আনার সুপারিশ করে। এর মধ্যে শুধু সাতক্ষীরা জেলায় আজ শনিবার থেকে লকডাউন কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। তাদের অভিমত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিটির সুপারিশ আমলে নিয়ে লকডাউন দিলে সংক্রমণ ওই জেলাগুলোর বাইরে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ কমে আসত। কিন্তু সেটি না করায় সংক্রমণ দেশের অন্যান্য জেলায়ও এখন ছড়িয়ে পড়ছে। এতে করে সংক্রমণ পরিস্থিতি ভারতের মতো নাজুক হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা স্বাস্থ্য বিভাগের নেই বলেও মনে করেন কেউ কেউ।
উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ভারতীয় ধরন:
আইইডিসিআর এবং আইডিএসএইচআইয়ের যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের ৫০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে ৪০টিতে ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। এ হিসাবে ৮০ শতাংশ ভারতীয় ধরন বা ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হলো। আটটি অর্থাৎ ১৬ শতাংশ নমুনায় বিটা ভ্যারিয়েন্ট বা সাউথ আফ্রিকান ধরন শনাক্ত হয়েছে। একটি সার্কুলেটিং এবং একটি অজানা ধরন।
কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের বিষয়টি তুলে ধরে গবেষণায় বলা হয়, ভারতীয় ধরনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে। কারণ, ভারতীয় ধরন শনাক্ত হওয়া ১৪ জন কখনও ভারতে যাননি এবং বিদেশ থেকে আসা রোগীর সংস্পর্শে আসার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে বলা যায়, ভারতীয় ধরনটির কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বিদ্যমান।
রোগী বাড়ছে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয়:
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে ভারতের সীমান্তে অবস্থিত কয়েকটি জেলায় সংক্রমণ বাড়ছে। গত দুই সপ্তাহের এই জেলাগুলোয় গত এক সপ্তাহে শনাক্তের হার ২৩ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সর্বোচ্চ আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এ জেলায় শনাক্তের হার ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এরপর পর্যায়ক্রমে খুলনায় ২৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ, রাজশাহীতে ২২ দশমিক ৭৪ শতাংশ, মৌলভীবাজারে ২০ শতাংশ, মেহেরপুরে ১৮ দশমিক ৮১ শতাংশ, দিনাজপুরে ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ, সাতক্ষীরায় ১৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ, সিলেটে ১৪ শতাংশ, যশোরে ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং কক্সবাজারে ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছে। সারাদেশে এক সপ্তাহে শনাক্তের হার ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।