সীমান্ত অপরাধ দমনে জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান

354

কুষ্টিয়ায় ৪৭-বিজিবির আয়োজনে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও জঙ্গি কার্যক্রম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক: সীমান্তর্বতী অঞ্চলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং দায়িত্ববোধ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও জঙ্গি র্কাযক্রম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ শিরোনামে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজিবির কুষ্টিয়া সেক্টরের ব্যবস্থাপনায় গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া শহরের দিশা টাওয়ারে এ সেমিনারের আয়োজন করে ৪৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন। সময়োপযোগী বিষয়ভত্তিক এ সেমিনারে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অতিথি ও বক্তারা বিষয়ভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। একইসাথে প্রোজেক্টরের মাধ্যমে সীমান্তের সমস্যা ও অপরাধ কেন্দ্রীক বিভিন্ন চিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রবন্ধ পাঠ শেষে সীমান্ত অপরাধ দমনে গণসচেতনতা সৃষ্টিসহ করণীয় সম্পর্কে মতামত আহ্বান করা হয়। এর প্রেক্ষিতে জনপ্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মো. মকবুল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের (যশোর) রিজিওনাল কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. খালেদ-আল-মামুন এনডিসি পিএসসি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ আশকারী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক গবেষক প্রফেসর ড. লাইলুফার ইয়াসমিন।
সেমিনারের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু সঈদ আল মসউদ। ৫৮ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মো. জসিমউদ্দিনের (পদাতিক) প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় বিজিবির পক্ষে সøাইডে চিত্র প্রদর্শনপূর্বক অপরাধ, আইন, মানবপাচার, কার্যকর প্রশাসন, শিক্ষা ব্যবস্থা, ধর্মীয় ঐক্য, মিডিয়া, সাইবার নিরাপত্তা, কঠোর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংস্কার সাধন, শিক্ষার সম্প্রসারণ প্রভৃতি বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ পাঠ করেন কুষ্টিয়ার মিরপুর-৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশেদুল হক খান পিপিএমএস এবং চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মুহাম্মদ লুৎফুল কবীর জি+। অতিথি বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান, আইন অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. শাহজাহান মন্ডল ও কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরানী ফেরদৌস দিশা।
সেমিনারে অতিথি হিসাবে আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিওনাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো যশোরের পরিচালক লে. কর্নেল আব্দুল খবীর সরকার, দক্ষিণ-পশ্চিম রিজয়ন যশোর সদর দপ্তরের পরিচালক লজিস্টিক লে. কর্নেল আহমেদ জুনাইদ আলম খান পিবিজিএম, চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমাম হাসান, ৫৮-বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান পিএসসি, চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত) আব্দুল মোমেন, যশোর ফিল্ড ইন্টেলিজেন্সের গ্রুপ কমান্ডার মেজর মোস্তাক আহাম্মদ, ৪৭-বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর আ ন ম নজরুল ইসলাম, দিশা এনজিও কুষ্টিয়ার নির্বাহী পরিচালক রবিউল ইসলাম, দৈনিক সময়ের সমীকরণের সম্পাদক ও প্রকাশক শরীফুজ্জামান শরীফ, প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন বলেন- অসাধু ও লোভী ব্যবসায়ীরা আমদানিযোগ্য পণ্য কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালান করছে। যার পরিমাণ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। অন্যদিকে, ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন ও ইয়াবার মতো মাদকদ্রব্য এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরকের মতো ক্ষতিকর দ্রব্যসামগ্রী আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এসব নিষিদ্ধ দ্রব্য পাচার করে আনছে একটি ধ্বংসাত্মক চক্র। আরো আছে নারী ও শিশু পাচার। তবে গরু পাচার একটু আলাদা, কারণ হতদরিদ্র মানুষেরা গরু আনতে ব্যবহৃত হয়। যদিও বিছিন্নতাবাদী ও চোরাকারবারীরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে সীমান্ত সন্ত্রাসে লিপ্ত থাকে, তবে আমাদের সীমান্ত বেশ শান্ত।
বিশেষ অতিথি দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন যশোরের রিজিওনাল কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. খালেদ-আল-মামুন এনডিসি পিএসসি বলেন- আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিহতে সীমান্তবর্তী আট কিলোমিটারের মধ্যে সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে টহল ছাড়াও বিজিবি তল্লাশি, ফাঁদ, রেইড ও টাস্কফোর্স অপারেশন করে থাকে। চোরাকারবারিরা অভিনব কৌশলে কাজ করলেও ছাড় পাচ্ছে না। প্রতিরোধ গড়তে আইনি কর্তব্যের পাশাপাশি বিজিবি নৈতিক দায়িত্ব পালনেও বর্তমানে সোচ্চার। মতবিনিময় এবং প্রেষণামূলক আলোচনার মাধ্যমে গণসচেতনতা ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টিতে কাজ শুরু করেছে বিজিবি। এক্ষেত্রে দেশের বড় একটা শক্তি হচ্ছে গণমাধ্যম। গণমাধ্যম আমাদের সহযোগিতা করলে খুব দ্রুতই আমরা আন্তঃসীমান্ত অপরাধ সম্পূর্ণরুপে বন্ধ করতে পারবো। এছাড়া জনপ্রতিনিধিদের সাহায্য সহযোগিতা না পেলে সীমান্ত অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব না। ফলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাহায্যেরও প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ আশকারী বলেন- আমরা সেই দেশের মানুষ যেই দেশ ১৯৭১ সালের ধর্ম বর্ণ জাতি ভেদাভেদ ভুলে যুদ্ধ করে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়েছি। এই দেশের কোনো বিভ্রান্ত জনগোষ্ঠীকে তাৎক্ষনিকভাবে হয়ত ভুল বুঝিয়ে রাখা যাবে কিন্তু স্থায়ীভাবে সেটি কখনোই সম্ভব নয়। এখানে সম্পৃক্ত চোরাকারবারি ও পাচারকারী দলের সদস্যদের সুষ্ঠু জীবনে ফিরে আনার কৌশল থাকাটাও জরুরি।
বিশেষ অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক গবেষক প্রফেসর ড. লাইলুফার ইয়াসমিন সøাইডে গবেষনার তত্ত্ব উপস্থাপনসহ দেশের সীমান্ত এবং সীমান্ত এলাকায় অপরাধের কারণসহ উত্তরণের উপায় নিয়ে গবেষনামূলক আলোচনা করেন।
দ্বিতীয় পর্বে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক জহির রায়হান, মেহেরপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম রসুল, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমানসহ চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদাহ ও মেহেরপুরের বিজিবির র্শীষ র্পযায়ের র্কমর্কতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যমর্কমীরা।