চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ১৭ নভেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে বিএনপির ৩ দিনের কর্মসূচি

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
নভেম্বর ১৭, ২০২১ ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে বাংলাদেশী ৪ নাগরিক হত্যার প্রতিবাদে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। রাজধানী ঢাকাসহ সীমান্তবর্তী দুই জেলায় মানববন্ধন করবে দলটি। আগামী ১৮ নভেম্বর লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে, ১৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাটে এবং ২০ নভেম্বর ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন হবে। গতকাল মঙ্গলবার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেয়া এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর আগে বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশী সীমান্ত হত্যা বন্ধ করবে বলে প্রতিবেশী দেশ বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, পতাকা বৈঠক হচ্ছে। কিন্তু সীমান্তে নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না। তাই সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে আগামী শনিবার বেলা ১১টায় বিএনপির পক্ষ থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।

বিএনপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সম্প্রতি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক চারজন বাংলাদেশী নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে বলা হয়, জাতীয় স্থায়ী কমিটি মনে করে সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণেই সীমান্তে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশী নাগরিকদের গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলা হয়, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ করার জন্য গুলি করে মানুষ হত্যা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়। গত সোমবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে বিএনপি মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা, প্রাণহানি, কারচুপি ও জালিয়াতির ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে দেশের গণতন্ত্রের জন্য এবং তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে চরম হুমকিস্বরূপ। বিএনপি এই আইন করার সময়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল এবং এই আইন সামাজিক বিভাজন ও সহিংসতা বৃদ্ধি করবে বলেও মত প্রকাশ করেছিল। এই নির্বাচনে চলমান সহিংসতার ঘটনাবলির মধ্য দিয়ে বিএনপির বক্তব্যের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হলো। বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় উল্লেখ করে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যোগ্য নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনের দাবিও জানানো হয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে জ্বালানি তেল ডিজেল, কেরোসিন ও এলপিজি গ্যাসের মূল্য কমানোর দাবি জানানো হয় বৈঠকে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।