সীতাকুন্ডে আক্রান্ত আরও ১৩ জন

301

005_307987সমীকরণ ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ত্রিপুরা পল্লীতে ছড়িয়ে পড়ছে অজ্ঞাত রোগ। নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এই রোগে গত সপ্তাহে নয় শিশু মারা গেছে। শুক্রবার আরও ১৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এতদিন শুধু শিশু আক্রান্ত হলেও এখন এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে বয়স্কদের মাঝেও। ২০ ও ২২ বছর বয়সী দুই পুরুষ ও নারী আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি-সংযুক্ত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় এ হাসপাতাল থেকে ২০ জনকে শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। রক্ত, লালাসহ সংগৃহীত বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন না আসায় চিকিৎসকরা এখনও এ রোগ সম্পর্কে অন্ধকারে আছেন। এদিকে দুর্গম এ এলাকায় কেন কেউ টিকা গ্রহণ করেনি এবং কীভাবে নয় শিশুর মৃত্যু ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করেছে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নাছির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘সীতাকু-ের ত্রিপুরা পল্লীতে ছড়িয়ে পড়া রোগের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রোববারের মধ্যে ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেলে রোগের প্রকৃত কারণও জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে এখন অপুষ্টি ও জ্বরের চিকিৎসা করা হচ্ছে।’ ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি-সংযুক্ত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘প্রতিদিন এ রোগে আক্রান্ত নতুন রোগী আসছে। আক্রান্তের তালিকায় সুমনবন্ধু ত্রিপুরা ও রানুবালা ত্রিপুরা নামে দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিও রয়েছেন।’ কাজ শুরু করেছে তদন্ত কমিটি, শিশু মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে গঠিত দুটি কমিটি শুক্রবার থেকে কাজ শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং সীতাকু- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটিগুলো গঠন করা হয়। খতিয়ে দেখা হচ্ছে টিকা না পাওয়ার কারণ, সারাদেশে সরকারি উদ্যোগে ১০টি রোগের জন্য শিশুদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও সীতাকু-ের সোনাইছড়ি ত্রিপুরাপল্লীর শিশুরা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। কখনও কোন টিকাকর্মী ওই এলাকায় যায়নি বলেও দাবি করেন এলাকার বাসিন্দারা। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি,  চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দা কম্বু ত্রিপুরা বলেন, ‘আমাদের এলাকায় শিশুদের কখনও টিকা দেওয়া হয়নি। টিকা বলতে কী বোঝায় তা আমরা জানি না।’ ত্রিপুরাপল্লীর অধিকাংশ মানুষ দিনমজুরি ও জুম চাষ করেন। তাদের পরিবারের নারীরাও জুম চাষে জড়িত। যার কারণে অনেকে শিশুদের টিকা দেয় না।’