চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২৯ আগস্ট ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সালমার অবস্থা উন্নতির দিকে : দালালসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ২৯, ২০১৭ ৮:১০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: গৃহকর্মী হিসাবে ৯ মাস আগে সৌদি আরবে বিক্রি হওয়া সালমা খাতুনের (২৮)অবস্থা কিছুটা ভালো বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক তারিক হাসান সাঈদ। সোমবার সকালে নির্যাতিতার স্বামী জিনারুল ইসলাম বাদী হয়ে দালাল চক্রের সদস্য হাবলুসহ দুই জনের নাম উল্লেখ করে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সালমার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার শিবপুর গ্রামে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তারিক হাসান সাঈদ জানান, সালমার শারিরীক অবস্থা উন্নতি দিকে। তার শরীরের আঘাতগুলো গুরুতর। সালমার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগবে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছে। এদিকে জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন আহমেদ, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার সেলুনসহ বিভিন্ন সংস্থা সালমা খাতুনকে আর্থিক সাহায্য করাসহ তার চিকিৎসার ভার নিয়েছেন। জেলা পুলিশ যতদ্রুত সম্ভব দালাল চক্রের সদস্য হাবলুকে আটকের জন্য কাজ করছে উল্লেখ করে আলমডাঙ্গা থানার ওসি আক্রাম হোসেন জানান, সোমবার সকালে সালমা খাতুনের স্বামী জিনারুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনার পর থেকে দালাল চক্রের সদস্য হাবলুসহ গুলশান-২ নতুন বাজারের ‘আল জাহান এজেন্সি’র লোকজন আত্মগোপণ করেছে। পুলিশ আসামিদের ধরতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ৯ মাস আগে জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার শিবপুর গ্রামের জিনারুল ও তার স্ত্রী সালমা খাতুনকে মোটা অঙ্কের বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে দেড় লাখ টাকা নেন দালাল চক্রের সদস্য ও একই উপজেলার কমলাপুর গ্রামের মৃত জলিল ম-লের ছেলে হাবলু। এর এক মাস পর স্বামী জিনারুল ইসলামকে না পাঠিয়ে স্ত্রী সালমা খাতুনকে রাজধানী গুলশান-২ নতুন বাজারের ‘আল জাহান এজেন্সি’র মাধ্যমে সৌদি আরব পাঠানোর হয়। সেখানে গিয়ে সালমা একটি বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ শুরু করেন। মাস দুয়েক এর মাথায় সালমা বুঝতে পারেন  হাবলুরা তাকে ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছে। এটা জানার পর সালমা খাতুন যখন ক্রিতদাস হিসেবে থাকতে অস্বীকৃতি জানান তখনই তার ওপর শুরু হয় নির্মম নির্যাতন। নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুই দফা হাসপাতালে নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সহযোগীতায় তিনি সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসে পৌঁছান। পরে দূতাবাসের কর্মকর্তারা গত বৃহস্পতিবার তাকে দেশে ফেরত পাঠায়। এরপর শুক্রবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।