চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ১৪ আগস্ট ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সার-ডিজেলেই চাষির কপালে চিন্তার ভাঁজ

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
আগস্ট ১৪, ২০২২ ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদক: সারের দাম বৃদ্ধির পর ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে চুয়াডাঙ্গার চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে। এর উপর পুরো ভরা বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় খাল বিল, পুকুর নালাতে নেই পানি। পাট জাগ ও চলতি আমন মৌসুমে চারা রোপনে সংকটে পড়ে কৃষকরা এখন দিশেহারা। আবার এক লাফে ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় এ যেন ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষকের কাছে। এছাড়া লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করায় আরো বিপাকে এই চাষিরা। বর্ষায় চাষিদের তেমন একটা সেচের প্রয়োজন নাহলেও এবার অনাবৃষ্টিতে জেলার অনেক এলাকায় ধানের জমি শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। যেটা অন্যবার চোখে পড়ে না। এর মধ্যেই আবার অনেক এলাকায় চলছে ধান লাগানোর কাজ। ডিজেলের দাম মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের হয়েছে মরণ-দশা। দেশে ফসল উৎপাদনের জন্য সেচ অপরিহার্য। মোট ব্যবহৃত পানির ৯৭ ভাগ সেচকার্যে ব্যবহার হয়। ভু-গর্ভস্থ পানির তুলনায় উপরিভাগের পানি সেচের জন্য অধিক উপযোগী হলেও শুষ্ক মৌসুমে ভু-উপস্থিপানির অপরনীয় মজুত না থাকায় দেশের ৭৮ ভাগ সেচ ভু-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীল। তাই সেচ কার্য পরিচালনায় প্রতি বছর গভীর ও অগভীর নলকুপের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে ভু-গর্ভস্থপানি উত্তোলন করা হয়। শুধুই ধানের আবাদ নয়,সব ফল-ফসলেই ক্ষেত্রমতে পানি সেচের প্রয়োজন হয়। ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের জন্য যেমন পরিমিত সেচ ব্যবস্থা প্রয়োজন,তেমনি জমির উর্বরতা বজায় রাখতেও পরিমিত সেচ গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখে। আর এ জন্য স্যালোইঞ্জিন চালাতে প্রয়োজন হয় বিদ্যুৎ ও ডিজেলের। বিদ্যুতের অপর্যাপ্ত পরিমান লোডশেডিং এর ফলে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন সেচকাজে খরচ বেড়ে গেছে দ্বিগুণ।

কৃষকরা জানান, এমনিতে ধান উৎপাদনে খুব একটা লাভ নেই তাদের। তার ওপর সার বীজ কীটনাশক দাম বাড়তি। নতুন করে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ধান উৎপাদন নিয়ে শংকার মধ্যে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলার কৃষকরা। উচ্চমূল্যে ডিজেল কিনে চাষাবাদ করা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার বলে মনে অধিকাংশ কৃষক।

এদিকে পাট জাগ ও পাটের আঁশ ছাড়ানো নিয়ে চুয়াডাঙ্গার কৃষকরা বিপদে আছেন । ডোবা নালা খাল বিলে এ বর্ষায় বৃষ্টি না হওয়ায় পানি নেই। শুকিয়ে আছে জলাশয়গুলো।এদিকে নদ-নদীগুলো খনন কাজ করায় নদীগুলোতে পাট জাগ দেওয়া নিষেধ রয়েছে যার আরো বিপাকে পাট চাষীরা। সরেজমিনে কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাট জাগ দিতে কৃষকরা ছোট ছোট গর্তে স্যালো ইঞ্জিন দিয়ে পানি তুলে তা পূর্ন করে সেখানে পাট জাগ দিচ্ছেন।

দামুড়হুদা উপজেলার নতুন গ্রামের কৃষক রফিকুল, মমিনুল ও মোরশেদ বলেন, এবার বর্ষায় তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাট জাগ দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। তাছাড়া ছোট ছোট ডোবা, পুকুরে মাছ চাষ করায় সেখানে পাটের জাগ দেওয়া যাচ্ছে না। আবার বাড়তি দামে ডিজেল কিনে গর্তে পানি দিয়ে পাট জাগ দেওয়া সম্ভব না। এভাবে পাট জাগ দিতে না পারায় অনেক পাট জমিতেই শুকোচ্ছে। এতে করে লাভ তো দূরের কথা খরচ তোলায় মুস্কিল।

আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশ জেলায় পাটের আবাদ ভালো হলেও পানির অভাবে পাট পচাতে পারছেন না কৃষকেরা। অল্প পানিতে বারবার পাট পচানোয় আঁশের রং কালো হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ১৬শ থেকে ১৭ শ টাকায় প্রতি মণ পাট কেনা হচ্ছে। আর পাটের আঁশ একটু কালো হলেই দাম কমে যাচ্ছে ৩শ থেকে ৪শ টাকা পর্যন্ত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিভাষ চন্দ্র সাহা জানান, এবার চুয়াডাঙ্গার চারটি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২০ হাজার ৭২৯ হেক্টর জমিতে কৃষকরা পাট চাষ করেছেন। গত বছরের চেয়ে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে বেশি পাট চাষ হয়েছে। দাম ও ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, পাট অধিদফতর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর পাট চাষিদের প্রণোদনা প্রকল্পের মাধ্যমে পাট বীজ, রাসায়নিক সার দেওয়া হয়েছে। মূলত পাটের দাম ভালো হওয়ায় চাষিরা পাট চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তবে এবারে বর্ষা খাল বিলে পানি না থাকায় পাট জাগ দিতে চাষীদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। কৃষকের রিবন প্রদ্ধতিতে পাট জাগ দেয়ার কথা বলা হলেও তাতে তারা উৎসাহী নন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গায় চলতি মৌসুমে ২০ হাজার ৭২৯ হেক্টর জমি থেকে পাট উৎপাদন হবে ৬৪ হাজার ৬৭৫ মেট্রিক টন।

আমন ধানের চারা রোপনেও একই সমস্যায় পড়েছেন জেলার অধিকাংশ এলাকার কৃষকেরা। সার ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গত মৌসুমের তুলনায় এবারের সেচের খরচ দ্বিগুন হয়েছে। এতে করে ধান,পাটসহ সব ধরনের কৃষিপন্য উৎপাদনে খরচ মিটিয়ে কৃষকের লাভের মুখ দেখা প্রায় অসম্ভব বলে অনেকে জানান। এমন পরিস্থিতি আগামীতে বহাল থাকলে কৃষকরা ধান পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে বলে অনেকের মত।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।