চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২০ মার্চ ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সার্চ কমিটিকে বিশিষ্টজনের পরামর্শ; শক্তিশালী ইসি সম্ভব কি

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মার্চ ২০, ২০২২ ৯:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

একটি গণতান্ত্রিক দেশের আসল মালিক দেশটির জনগণ। তাদের মালিকানা প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এ ধরনের নির্বাচনে মানুষের প্রকৃত মতামতের বা গণ-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটে। তখনই বলা যায়, দেশ পরিচালিত হচ্ছে জনগণের ইচ্ছায়। কিন্তু গত এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো প্রক্রিয়া উপস্থিত নেই। বিদায়ী নির্বাচন কমিশন পুরো নির্বাচনীব্যবস্থার এমন বেহাল দশা করেছে যে, নির্বাচনের প্রতি এখন সাধারণ ভোটারদের বিন্দুমাত্র আস্থা ও আগ্রহ নেই। দেশে এ মুহূর্তে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনপ্রক্রিয়া চলছে। এ জন্য নতুন আইন তৈরি করে সেই আলোকে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি বিশিষ্টজনদের সাথে মতবিনিময় করছে। সার্চ কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিন শতাধিক ব্যক্তির নাম পেয়েছে। তাদের মধ্য থেকে সিইসি-সহ অন্য কমিশনারদের বেছে নেয়া হবে। প্রক্রিয়া অনুযায়ী, সার্চ কমিটি ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করবে। রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে পাঁচজনকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেবেন। চূড়ান্ত পর্যায়ে কাদের নিয়ে ইসি গঠন হতে যাচ্ছে সে বিষয়ে দেশের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে টান টান উত্তেজনা। স্নায়ুচাপে ভুগছেন রাজনৈতিক অঙ্গনের লোকজনসহ সর্বস্তরের জনগণ। কারণ তারা নির্বাচনের নামে আর প্রহসন দেখতে চান না। সত্যিকারের সুষ্ঠু নির্বাচনে জন-আকাক্সক্ষা পূরণের মতো সৎ, যোগ্য, সাহসী ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিশন গঠন হচ্ছে কি না তা-ই এখন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। গত শনিবার মতবিনিময় সভায় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সার্চ কমিটিকে যেসব পরমার্শ দিয়েছেন তাতে গণমানুষের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রায় সবাই একবাক্যে বলেছেনÑ নির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে বেশির ভাগ মানুষের কাছে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে। তারা সবচেয়ে জোর দিয়েছেন একটি বিষয়ে; কোনো দলীয় সরকারের অধীনে সুবিধাপ্রাপ্ত, রাজনৈতিক সুবিধা নেয়া ব্যক্তি যেন ইসিতে স্থান না পান। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, চাকরির এক্সটেনশন, সুপারসিড করার মাধ্যমে সরকারের সুবিধা পাওয়া কেউ যেন নির্বাচন কমিশনে না আসেন। যারা অবসরের পর কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং যাদের সাথে সরকারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক আছে তাদেরও যেন কোনোভাবেই বিবেচনায় না আনা হয়। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতির কাছে সার্চ কমিটি যে ১০ জনের তালিকা দেবে; সেটি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ নানা মহল থেকে যাদের নাম এসেছে তার তালিকা গণমাধ্যমে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বেশির ভাগ বিশিষ্টজন। তবে বিশিষ্টজনের কেউ বলেছেন, কমিটি তাদের পরামর্শ কতটুকু গ্রহণ করবে সেটি পরে বুঝতে পারব। বৃক্ষের পরিচয় পাওয়া যাবে ফল দেখলেই। কমিটিতে যে ৩০৯ জনের নাম এসেছে সেগুলো রোববার যাচাই-বাছাইয়ের কথা। এরপর কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে নামগুলো প্রকাশ করা হবে কি না। আসল কথা এই যে, জাতি এমন একটি শক্তিশালী নিরপেক্ষ কমিশন দেখতে চায়, যারা সুষ্ঠু নির্বাচনে যা কিছু করণীয় তার সব কিছুই করায় সক্ষম হবেন এবং পূর্ণ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে পারবেন। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা কারা সেটি কারো অজানা নয়। সেই বাধা প্রতিহত করে দেশে প্রভাবমুক্ত সুষ্ঠু নির্বাচন করার মতো যোগ্য ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন লোকের অভাব আছে এমন নয়। দরকার সার্চ কমিটির দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়া। তাতেই যে কাক্সিক্ষত সুফল আসবে এমনও নয়। এরপর থাকবে রাষ্ট্রপতির সদিচ্ছার বিষয়টি। কিন্তু তাকে কাজ করতে হবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে। সে ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিতভাবেই দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে প্রাধান্য পাবে সে নিশ্চয়তা আছে কি?

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।