সারা দেশে আরও ৩৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২৫৩৭

13

চুয়াডাঙ্গায় নতুন ৩৭ ও ঝিনাইদহে ১৭ জনের করোনা শনাক্ত
সমীকরণ প্রতিবেদক:
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১২ হাজার ৯৪৯ জনে। একই সময়ে নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৫৩৭ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ লাখ ১৭ হাজার ৮১৯ জনে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ২৬৭ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় ২০ হাজার ৬০৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা করা হয়েছে ২০ হাজার ৫৮৪টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৬ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ৬, রাজশাহীতে ৯, খুলনায় ১০, সিলেটে ১ ও রংপুর ৪ জন মারা গেছেন।
২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ এবং ১৯ জন নারী। এদের সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ২১ জনেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৮ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও ৩৭ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৪৬ শতাংশের বেশি। নতুন ৩৭ জনসহ জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৫৪ জনে। বর্তমানে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে থাকা রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ২৪১ জনে। গতকাল বুধবার রাত নয়টায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করে। গতকাল জেলায় নতুন কেউ সুস্থ হয়নি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৮৪৩ জন।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ৬৯টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পেরণ করে। গতকাল পূর্বের পেন্ডিং নমুনাসহ ৮০টি নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিসে এসে পৌঁছায়। এর মধ্যে ৩৭ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ৪৩টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল নতুন আক্রান্ত ৩৭ জনের মধ্যে সদর উপজেলর ১৭ জন, আলমডাঙ্গার ৪ দুজন, দামুড়হুদায় ১৩ জন ও জীবননগের ৩ জন। জেলায় মোট শনাক্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ৭৯ জন, আলমডাঙ্গায় ৩৭৮ জন, দামুড়হুদায় ৪৬৩ জন ও জীবননগরে ২৩৪ জন।
এদিকে, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য আরও ৮১টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষর জন্য প্রেরণ করেছে। এ নিয়ে জেলায় মোট নমুনা সংগ্রহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৭৩০ জনে। জেলায় এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৮৪৩ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৯১ জন, আলমডাঙ্গার ৩৪০ জন, দামুড়হুদায় ৩১৫ জন ও দামুড়হুদায় ১৯৭ জন সুস্থ হয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১০ হাজার ৭৩০টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১০ হাজার ৩৮০টি, পজিটিভ ২ হাজার ১৫৪ জন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ২৪১ জন করোনাক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ জন, আলমডাঙ্গায় ১৮ জন, দামুড়হুদায় ১৩২ জন ও জীবননগরে ৩২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ২১৫ জন হোম আইসোলেশনে আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪৮ জন, আলমডাঙ্গায় ১৪ জন, দামুড়হুদায় ১২০ জন ও জীবননগরে ৩১ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার ১০ জন, আলমডাঙ্গার ১ জন, দামুড়হুদার ১১ জন ও জীবননগরের ১ জন জনসহ মোট ২৩ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৭০ জনের। এরমধ্যে সদর উপজেলার ২৫ জন, আলমডাঙ্গায় ১৭ জন, দামুড়হুদায় ১৮ জন ও জীবননগরে ৪ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এ জেলার বাইরে। উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন রয়েছে অন্য ৩ জন।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝিনাইদহে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৪১ ভাগ। যা গতকাল ছিল ২৪ দশমিক ৪৫ ভাগ।
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, গতকাল বুধবার সকালে খুলনা, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ ল্যাব থেকে আসা করোনার ফলাফল পর্যালোচনা করে এই তথ্য জানান। তিনি জানান, ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের দাঁড়াল ৩ হাজার ১০ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৭ জন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ঝিনাইদহে কেউ মারা যায়নি। বুধবার পর্যন্ত ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন ১০ জন।
ঝিনাইদহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আব্দুল হামিদ খান জানান, এ পর্যন্ত তাঁরা করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত ৭৭ জনের লাশ দাফন করেছে। এদিকে বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মহেশপুরের শ্যামকুড় ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা থেকে অবৈধ পথে ভারতে প্রবেশের সময় কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার ভাকুড্ডা গ্রামের খোরশেদ আলমের মেয়ে ফাতেমা আক্তার, মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিনয়গ্রামের ছাদেকুর রহমানের মেয়ে সুবর্ণা, খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলার রকিশনগর গ্রামের কামালের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ও দালাল জীবননগরের আজিজুলের ছেলে অপুকে বিজিবি আটক করে।
একই দিন মহেশপুরের কানাইডাঙ্গা গ্রাম থেকে ময়মানসিংহ জেলার আলালপুর গ্রামের মফিদুল ইসলামের মেয়ে খালেদা আক্তার মুন্নিকে বিজিবি আটক করে। এরা অবৈধ পথে ভারতে যাচ্ছিল। মহেশপুর-৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান গতকাল বুধবার এক ই-মেইল বার্তায় এ খবর জানান।