সাফাতের বাবার অবৈধ সম্পদের খোঁজে শুল্ক গোয়েন্দারা : আপন জুয়েলার্সের তিনশ কেজি স্বর্ণালঙ্কার আটক

302

সমীকরণ ডেস্ক: ধর্ষণের মামলায় মালিকের ছেলের বিরুদ্ধে মামলার পর আপন জুয়েলার্সে অভিযান চালিয়ে প্রায় তিনশ কেজি সোনা ও হীরার গহনা আটক করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। স্বর্ণ ও রতœ সংগ্রহের তথ্যে অস্বচ্ছতা এবং মালিকের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই রোববার এই অভিযান চালানো হয় বলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান জানান। বেলা ১১টার দিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় এই অলঙ্কার ব্র্যান্ড আপন জুয়েলার্সের মৌচাক, উত্তরা, জিগাতলার সীমান্ত স্কয়ার এবং গুলশানের দুটি বিক্রয় কেন্দ্রে একযোগে অভিযান শুরু হয়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ শাখার ভ্যাট কর্মকর্তারা ছাড়াও র‌্যাব সদস্যরা যোগ দেন এই অভিযানে। অভিযান শেষে রাতে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দীপা রানী হালদার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাঁচটি শাখার চারটি থেকে মোট ২৮৬ কেজি স্বর্ণালঙ্কার এবং ৬১ গ্রাম হীরা আটক করা হয়েছে। এর সর্বমোট মূল্য ৮৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আটক স্বর্ণালঙ্কার শুল্ক আইনের বিধান অনুসারে প্রতিষ্ঠানগুলোর জিম্মায় রাখা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। শুল্ক গোয়েন্দারা জানান, এই সোনার গহনা এখন তাদের কাছে থাকবে, তবে তারা বিক্রি করতে পারবেন না। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব পণ্যের কাগজপত্র গভীরভাবে যাচাই করা হবে, অনুসন্ধানে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠান মালিকের বিরুদ্ধে চোরাচালান ও মানি লন্ডারিং আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযানকারী দলের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আপন জুয়েলার্সের সব শাখা কর্তৃক উপস্থাপিত দলিলাদির সঙ্গে পাওয়া সোনার গরমিল পাওয়া গেছে বলে শুল্ক গোয়েন্দারা জানান। দুপুরে অভিযানের পর গুলশানের সুবাস্তু টাওয়ারে আপন জুয়েলার্সের শোরুমটি বন্ধ করে দেয়ার কথা জানান অধিদপ্তরের যুগ্ম কমিশনার শাফিউর রহমান। তিনি বলেন, আমরা এটা সিলগালা করেছি। এখন এটা খুলতে হলে তাদের প্রতিনিধি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। তখন বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মহাপরিচালক মইনুল খান বলেছিলেন, দেশে তো স্বর্ণের আমদানি নেই। তারপরও তারা এগুলো কোথা থেকে কীভাবে এনেছে… বৈধ উপায়ে আনলে ভাল, না হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।