চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাওতাল পল্লীতে নারীর মৃত্যু নিয়ে নানা গুঞ্জন

সমীকরণ প্রতিবেদন
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১ ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রতিবেদক, মহেশপুর:
মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর সাওতাল পল্লীতে কাজলী ওরফে দুগীরকে কেউ হত্যা করেছে নাকি আত্মহত্যা করেছে, এ ঘটনা নিয়ে সাওতাল পল্লীতে নানা ধরণের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কেউ বলছে গহনা এবং টাকার লোভে পাঁচ দিন আগে কে বা কারা কাজলীকে হত্যা করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মিথ্যা আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। আবার পরিবারের লোকজন বলছে অতিরিক্ত নেশা করার কারণে নিজেই আত্মহত্যা করেছে। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে মহেশপুর উপজেলার স্বরুপপুর ইউনিয়নের সাওতাল পল্লীতে।
নিহত কাজলীর ছোট মেয়ে বন্যা জানান, যে দিন তার মা কাজলী মারা যায় ওই দিন রাত ৮টার দিকে তাকে তার মামার বাড়িতে রেখে আসে। ভোর ৫টার সময় কাজলীর বাড়িতে থাকা জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের চনটু ও তার স্ত্রী তাকে সংবাদ দেয় তার মা আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু যে ঘরে কাজলী মারা যায় সেই ঘরে গলাই দড়ি দেওয়ার কোনো দঁড়ি বা ওড়না পায়নি বলে জানান বন্যা। তা ছাড়া যে দিন তার মা মারা যায়, তার আগের দিন রাতে কাজলীর পরনে ছিল সালোয়ার কামিজ কিন্তু মৃত্যুর পরে তার পরনে ছিল বন্যার জামা-পাইজামা। বন্যা আরও বলেন, ‘আমার মা কোনো দিন আমার জামা-পাইজামা পরেনি। শুধু তাই নয়, যদি আত্মহত্যা করতো, তাহলে হাত দিয়ে মাটি হাচড়ানো থাকতো না।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাজলী প্রতিদিন নেশা করতো। নেশা করে সারাদিন ঘরে পড়ে থাকত এবং কাজলীর মায়ের দেওয়া কিছু স্বর্ণের গহনা নিয়ে তার বড় মেয়ে স্বপ্না এবং তার স্বামী রনজিতের সাথে প্রায় কথা কাটাকাটি হতো।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যে ঘরেতে কাজলী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘরটির আড়া ছিল সাড়ে ৫ ফিট উচ্চতা। কিন্তু কাজলী লম্বায় ছিল ৫ ফিট। তাছাড়া গলাই দঁড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করার জন্য ব্যবহৃত দড়ি, কিংবা ওড়না কেউ দেখাতে পারেনি। একপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর বাড়ি থেকে গা-ঢাকা দেন কাজলীর বড় জামাই রনজিৎ এবং বাড়িতে থাকা চনটু ও তার স্ত্রী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাজলীর মূল আয় ছিল চুল্লোর ব্যবসা। সেই সুবাদে কাজলি মোটামুটি বেশ অর্থের মালিক ছিল। তার স্বামী রনটু, কাজলী এবং তার দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে রেখে চলে যায়। তারপর থেকে জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের পাথিলা গ্রামের আ. রাজ্জাকের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ অনৈতিক সম্পক তৈরি হয়। রাজ্জাক কাজলীর বাড়িতে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতেন। বেশ কিছুদিন যাবৎ রাজ্জাক তার বাড়িতে আসা বন্ধ করে দেন। সেই থেকে কাজলী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
স্বরুপপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, দত্তনগর সাওতাল পল্লীতে কাজলী নামের এক নারী মারা গিয়েছে। এ বিষয়টি শুনে আমি ঘটনাস্থানে যায় এবং তার পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলি। তারা আমাকে জানাই কাজলী অতিরিক্ত মাদক সেবন করার কারণে স্ট্রোক করে হয়ত মারা গেছে। তবে পুলিশ তদন্ত করলে বিষিয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে আসলে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।
মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দত্তনগর সাওতাল পল্লী থেকে কাজলী নামের একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশটি ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। নিহত কাজলীর পরিবারের সদস্যরা বলছেন, কাজলী অতিরিক্ত নেশা করে স্ট্রোক করে মারা গিয়েছে। এ কারণে লাশটি পোস্ট মর্ডেম করার জন্য মর্গে পাঠানো হয়। পোস্ট মর্ডেমের রিপোর্ট যতক্ষণ হাতে পাওয়া না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বলা যাবে না কীভাবে মারা গেছে। তবে এখনও পর্যন্ত নিহতর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। যার ফলে মহেশপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।