চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৭ আগস্ট ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাইরেনের শব্দ নিয়েও ভাবা দরকার

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ২৭, ২০১৭ ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্ন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২৭ আগস্টের পর ঢাকা মহানগরীর কোনো গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন বাজলে সেই গাড়ি জব্দ করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ২৩ আগস্ট বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিটে বলা হয়, মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী যানবাহনে এমন কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না যা শব্দদূষণ সৃষ্টি করে। হাইকোর্টের এ নির্দেশনা জনস্বার্থে একটি ভালো পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে। তবে হাইড্রোলিক হর্নের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, র‌্যাব ও সরকারি প্রটোকলধারীদের যানবাহনে যে সাইরেন ব্যবহার হয়ে থাকে, তা আরও শ্রুতিমধুর হওয়া প্রয়োজন। পথে বেরুলেই যানজটে আটকা পড়তে হয়। যানজটে আটকে থাকাবস্থায় কোনো না কোনো বিকট শব্দ কর্ণকুহরে হানা দেয়ই। রাস্তায় চলতে গিয়ে সাইরেনের শব্দ শোনেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। অনেকে সাইরেনের শব্দে চমকে ওঠেন। অনেকের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। বিপত্তি ঘটে তখন যখন অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ অথবা র‌্যারেব সাইরেন একইরকম মনে হয়। কাছে না আসা পর্যন্ত বোঝা যায় না এটি কোন বাহনের শব্দ। তাই একেক সংস্থার বাহনের সাইরেনের শব্দ একেকরকম এবং শ্রুতিমধুর হওয়া উচিত। পৃথক শব্দ থাকলে পথচারী অথবা রাস্তার আশপাশের ভবনের বাসিন্দারা বুঝে নিতে পারবে সাইরেন বাজিয়ে কোন সংস্থার বাহন যাচ্ছে। সাইরেনের তীব্রতায় অনেকের হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলেও মানবিক কারণে এ নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তোলে না। এমনও শোনা গেছে, সাইরেনের শব্দে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমরা মনে করি, হাইড্রোলিক হর্ন নিয়ে যেমনটা ভাবা হয়েছে, তেমনি সাইরেন নিয়েও ভাবা উচিত।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোনো এলাকায় ৬০ ডেসিবেল মাত্রার বেশি শব্দ হলে সেই এলাকা শব্দদূষণের আওতাভুক্ত হবে। ঢাকার কোনো কোনো ব্যস্ত সড়কে ৬০ থেকে ৮০ ডেসিবল শব্দ হয় বলে মনে করা হলেও হাইড্রোলিক হর্নে তা ৯৫ ডেসিবেল পর্যন্ত হচ্ছে। সাধারণত ৬০ ডেসিবেল মাত্রার শব্দ সাময়িকভাবে একজন মানুষকে বধির করতে পারে এবং ১০০ ডেসিবেল মাত্রার শব্দ সম্পূর্ণ বধিরতা সৃষ্টি করতে পারে। যানজট শব্দদূষণের একটি বড় কারণ। এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বড় বড় বিভাগীয় শহরগুলো এখন যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। এসব শহরে যানজটের কারণে শব্দদূষণের মাত্রাও বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। তাই হাইকোর্টের নির্দেশনা সারা দেশের জন্য প্রযোজ্য হলে আরও ভালো হতো বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা। দেখা যায়, অনেক চালক অকারণেই জোরে জোরে হর্ন বাজায়। অনেক সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি, এমনকি হাসপাতালের সামনেও জোরে হর্ন বাজায় তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইড্রোলিক হর্নের শব্দে যে পরিমাণ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, প্রায় একই ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে সাইরেনের শব্দেও। মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩-এর ১৩৯ ও ১৪০ নম্বর ধারায় নিষিদ্ধ হর্ন ব্যবহার এবং আদেশ অমান্য করার শাস্তি হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদ- ও অর্থদ-ের বিধান রয়েছে। কিন্তু এ বিধান কতটুকু কার্যকর হয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। পরিশেষে বলতে চাই, হাইড্রোলিক হর্নের মতো সাইরেনের শব্দদূষণের বিষয়টিও নীতিনির্ধারকদের ভেবে দেখা উচিত।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।