চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২ অক্টোবর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাংবাদিক তোয়াব খান আর নেই

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
অক্টোবর ২, ২০২২ ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
দৈনিক বাংলার সম্পাদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খান আর নেই। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি অসুস্থ হলে তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

বনানী কবরস্থানে দাফন :
তোয়াব খানের মেয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার ওপর নির্ভর করছে তার দাফনের দিনক্ষণ। তোয়াব খানের ছোট ভাই ওবায়দুল কবির বাচ্চু জানান, একমাত্র মেয়ে তানিয়া খান যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পর বনানী কবরস্থানে তোয়াব খানকে দাফন করা হবে। তানিয়া খানের দেশে পৌঁছানো নির্ভর করছে টিকিট পাওয়ার ওপর। ওবায়দুল কবির বাচ্চু আরো জানান, ইউনাইটেড হাসপাতাল লাশ দুই দিন রাখার সময় পেয়েছি। তানিয়ার পৌঁছানোয় দেরি হলে অন্য কোথাও রাখা হবে। মেয়ে না ফেরা পর্যন্ত দাফন হবে না। তবে পারিবারিকভাবে নামাজে জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টায় তোয়াব খানের লাশ তেজগাঁওয়ে নিউজবাংলা ও দৈনিক বাংলা কার্যালয়ে নেয়ার পর সেখানে প্রথম জানাজা হবে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কফিন রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বেলা ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবে রাখা হবে। সেখানে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে নেয়া হবে গুলশানের নিজ বাসভবনে। বাদ আছর গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে সর্বজনশ্রদ্ধেয় এ সাংবাদিককে দাফন করা হবে বনানী কবরস্থানে।

২০১৬ সালে একুশে পদক পাওয়া তোয়াব খানের জন্ম ১৯৩৪ সালের ২৪ এপ্রিল সাতক্ষীরা জেলার রসুলপুর গ্রামে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি তৎকালীন বিভিন্ন পত্রিকায় সমকালীন ইস্যু নিয়ে লেখালেখি করতেন। তার সাংবাদিকতা জীবনের শুরু ১৯৫৩ সালে সাপ্তাহিক জনতার মাধ্যমে। ১৯৫৫ সালে যোগ দেন দৈনিক সংবাদে। ১৯৬১ সালে তিনি দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক হন। এরপর ১৯৬৪ সালে যোগ দেন দৈনিক পাকিস্তানে। দেশ স্বাধীনের পর দৈনিক পাকিস্তান থেকে বদলে যাওয়া দৈনিক বাংলার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি দৈনিক বাংলার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সচিব ছিলেন। প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ও প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দসৈনিকের ভূমিকা পালন করেন তোয়াব খান। সে সময় তার আকর্ষণীয় উপস্থাপনায় নিয়মিত প্রচারিত হয় ‘পিন্ডির প্রলাপ’ নামের অনুষ্ঠান। দৈনিক জনকণ্ঠের শুরু থেকে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত পত্রিকাটির উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন তিনি। এরপর নতুন আঙ্গিক ও ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত দৈনিক বাংলার সম্পাদকের দায়িত্ব নেন তিনি। তিনি ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য। তোয়াব খানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল আলম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ ও মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলাম। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) একাংশ সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো: মশিউর রহমান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, গণতন্ত্রমঞ্চের নেতৃবৃন্দ, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মুহাম্মদ সামাদ, মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটসের আহ্বায়ক ফারুক আহমদ আরিফ, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এনায়েতুল্লা কৌশিক প্রমুখ।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।