সাংবাদিক এস এম শাফায়েতের রাজকীয় পদার্পণ

47

ঢাকার নাট্যমঞ্চে এক নাটকে একসঙ্গে চুয়াডাঙ্গার দুই কৃতী সন্তান
সমীকরণ প্রতিবেদক:
একঝাঁক তরুণ নাট্য গেরিলার দল ‘দৃষ্টিপাত’। ইতোমধ্যেই বেশ কিছু দর্শক সাড়া জাগানো নাট্য প্রযোজনা মঞ্চে এনে দর্শক নন্দিত হয়েছে দলটি। স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এবার ‘দৃষ্টিপাত’ মঞ্চায়ন করতে যাচ্ছে একটি ভিন্নধর্মী নাট্য প্রযোজনা ‘সে এক স্বপ্নের রাত’। নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন শক্তিমান মঞ্চ অভিনেতা ড. খন্দকার তাজমি নূর। নাটকটিতে একজন সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের চরিত্র (রাসেল) নিয়ে প্রথমবার মঞ্চে পা রাখবেন দৈনিক সময়ের সমীকরণ পরিবারের অন্যতম সদস্য ও দৈনিক যুগান্তরের কন্ট্রিবিউটর (বিনোদন) রিপোর্টার এস এম শাফায়েত। যেখানে শুধু একজন জেলা প্রশাসকের চরিত্রেই নয়, প্রেমিক পুরুষ হিসেবেও নিজেকে তৈরি করেছেন তিনি। একই নাটকে একজন পুলিশ অফিসারের চরিত্রে দেখা যাবে ঢাকায় থিয়েটারের নিবেদিত প্রাণ, চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান, অরিন্দম সুজন রজনীগন্ধা রফিককেও। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে নাটকটির।
মঞ্চে অভিনয় ও নিজের চরিত্র নিয়ে এস এম শাফায়েত বলেন, ‘নাটকটিতে রাসেল চরিত্রে অভিনয় করছি আমি। রাসেল, সদ্য নিযুক্ত একজন জেলা প্রশাসকের চরিত্র। কিন্তু গল্পটা আমাদেরই। ছাত্র জীবনে তুখোড় সংস্কৃতিমনা আর দূরন্তপনার সঙ্গে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যে মন কেড়েছিল হাজারো রমনীর। অথচ তার মনের মানুষ বলতে শুধুই তখন ‘বেলা’। বেলাই তার খেলার সাথী, বেলাই তার বন্ধু-বান্ধব, আত্মার-আত্মীয়। একটা সময় বেলা চলে যায় কলা কেন্দ্রে নাচ শিখতে। আর রাসেল বিসিএস করে প্রশাসনের তাল সামলাতে সামলাতে কখন যে বাস্তব জীবন থেকে শার্ট-কোর্ট আর যান্ত্রিকতায় মগ্ন হয়ে বহুদূরে সরে গেছে বেলার থেকে। তা বুঝতে অনেক দেরি হয়ে যায়। বেলার ঠাঁই হয় প্রখ্যাত লেখক অর্ণব চৌধুরীর সংসারে। অতীতকে বর্তমানে রূপান্তর করিয়ে দেয় জেলা প্রশাসক হিসেবে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার মাটি ও মানুষ। পিতার চাকরির সুবাদে এই জেলাতেই কেটেছিল রাসেলের ছাত্র জীবন আর বেলার সঙ্গে স্মৃতিময় কত সময়। আজ তা শুধুই নস্টালজিয়ায়। বেলার জন্মদিনে হঠাৎ চমকে দিয়ে হাজির হয় রাসেল। ডিসি বেশে নয়, এ যেন সেই প্রেমিক রাসেল। বাকি গল্পটা মঞ্চে হবে। আপনারা মঞ্চে এসে নাটক দেখলে আমি উৎসাহিত হবো।’
এ প্রসঙ্গে রজনীগন্ধা রফিক বলেন, ‘মঞ্চ নাটকের সঙ্গে আমার পথচলা দীর্ঘ সময়ের। বহু মঞ্চ নাটক, পথ নাটক, টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সুুযোগ হয়েছে আমার। তবে এবারের প্রযোজনাটি গতানুগতিকের চাইতে সম্পূর্ণ আলাদা। একটা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছি আমরা নাটকটির পিছনে। দল প্রধান, নির্দেশক থেকে শুরু করে সবাই অনেক পরিশ্রম করেছে। সেই সঙ্গে আমাদের স্নেহের ছোট ভাই শাফায়েত এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে নিজেকে গড়ে তুলেছে। থিয়েটারে নতুন এবং একজন জেলা প্রশাসকের চরিত্রে মঞ্চে তার রাজকীয় পদার্পণ হতে যাচ্ছে বলা চলে। এখন নিজেদের সেরাটা দেখানোর সময়। অবশ্যই তা দেখতে হলে মঞ্চে আসতে হবে। তবেই আমাদের সার্থকতা।’