চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২৬ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাংবাদিককে গালি দেওয়া টেকনাফের সেই ইউএনও ওএসডি

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ২৬, ২০২২ ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: সাংবাদিককে গালিগালাজের ঘটনায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কায়সার খসরুকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। অন্যদিকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ায় আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে ফরিদপুরের বোয়ালমারীর ইউএনও মো. রেজাউল করিম এবং তার কার্যালয়ের নাজির উকিল মিয়াকে। আদালতের নোটিস জারিকারকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় জারি করা রুল নিষ্পত্তি শেষে গতকাল বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

জানা গেছে, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা হোয়াব্রাং এলাকার সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপহারের ঘর নির্মাণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে গালিগালাজ করেন ইউএনও মোহাম্মদ কায়সার খসরু। সেই অডিও রেকর্ড নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। টেকনাফের ইউএনও যে ভাষায় একজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছেন, তা অগ্রহণযোগ্য- এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘দেশে ৪৯২টি উপজেলা। ৫০০ জন লোকের (ইউএনও) মধ্যে সবাই ভালো হবেন সেটা আপনি আশা করেন কীভাবে। তাকে আমরা ওএসডি করার নির্দেশ দিয়েছি। এরপর আদালত তার বিরুদ্ধে কী নির্দেশনা দেন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলে দিয়েছি। আমি গতকাল বিভাগীয় কমিশনারদের সম্মেলনে শক্তভাবে বলেছি, কমিশনাররা যে জেলায় যাবেন সব অফিসারদের নিয়ে বসবেন, তাদের আচার-আচরণ, চাল-চলনের বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে। এটা তো সাংবাদিকদের বিষয় নয়। এই ভাষায় তো আপনি কারও সঙ্গে কথা বলতে পারেন না। আপনি যত ম্যানেজমেন্টে থাকবেন, যত ওপরের দিকে থাকবেন তত মাথা নত রেখে কথাবার্তা বলতে হবে।’

বোয়ালমারীর ইউএনওর ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ‘ছরোয়ার শেখ বনাম নির্বাহী প্রকৌশলী, সওজ’ মামলাটি ফরিদপুরের বোয়ালমারী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন। এ মামলার নোটিস জারির জন্য ফরিদপুর জেলা জজ আদালতের নেজারত শাখার জারিকারক কামাল হোসেন ও মেহেদী হাসান গত ২৭ এপ্রিল বেলা আড়াইটার দিকে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। ওই সময় ইউএনও এবং নাজিরের হাতে লাঞ্ছিত হন তারা। নোটিস জারিকারকদের পা ধরে মাফ চাওয়া এবং তার নির্দেশনামতে মুচলেকা দিতে বাধ্য করার অভিযোগ করা হয় ইউএনওর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হাই কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন এবং তাদের তলব করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ জুন হাই কোর্টের তলবে ইউএনও মো. রেজাউল করিম ও নাজির উকিল মিয়া হাজির হয়েছিলেন। ওই দিন আদালত ইউএনওকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, আপনি একটি পক্ষ নিয়ে যে আচরণ করেছেন তা সভ্য রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। পাশাপাশি বোয়ালমারীর ইউএনও মো. রেজাউল করিম ও নাজির উকিল মিয়াকে ভর্ৎসনা করেন আদালত। গতকাল দেওয়া রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, ঘটনার দিন ইউএনও তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। নাজির উকিল মিয়াকে সতর্ক করে আদালত বলেছেন, আদালত এবং আদালতের দায়িত্ব পালনে সতর্ক থাকতে হবে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণ ঠিক করতে হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।