সর্বাত্মক লকডাউন

28

করোনা প্রতিরোধে ঘরে থাকতে হবে
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দেশে শুরু হয়েছে সাত দিনের ‘কঠোর’ লকডাউন। ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ সরকারি বিধি-নিষেধ বাস্তবায়নে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সারা দেশেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় ১০৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মাঠে রাখা হয়েছে। মানুষকে বিধি-নিষেধ মানাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর গাড়ি টহলে রয়েছে। সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। সর্বশেষ জারি করা আদেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে পুরোপুরি বন্ধ থাকছে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস। সড়ক, রেল ও নৌপথে চলাচল বন্ধ থাকছে। অভ্যন্তরীণ বিমান চলবে না। জরুরি ভিসা সেবার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী খোলা থাকবে বিদেশি দূতাবাস। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও কাঁচাবাজার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা খোলা থাকবে। খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ শুধু খাবার বিক্রির জন্য সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া যাবে না। টিকাকার্ড দেখানোর শর্তে যাওয়া যাবে টিকাকেন্দ্রে। ব্যাংক সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সপ্তাহে চার দিন খোলা থাকবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। গত বুধবার দেশে গত এক দিনে আরো আট হাজার ৮২২ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। আক্রান্তদের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় ১১৫ জনের মৃত্যুর খবরও জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সব মিলিয়ে করোনার সংক্রমণে শঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। সুখের কথা, দেশে করোনা টিকার যে সংকট দেখা দিয়েছিল, তা শিগগিরই কেটে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। চীন ও আমেরিকা থেকে ৪৫ লাখ ডোজ টিকা আসছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী গত বুধবার জাতীয় সংসদে জানান, চলতি বছরের মধ্যে ১০ কোটি ডোজ টিকা দেশে এসে যাবে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনে সংক্রমণ কমবে বলে আশা প্রকাশ করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ভালো ফল পেতে বিধি-নিষেধের সময় বাড়িয়ে দুই সপ্তাহ করার পরামর্শও দিয়েছেন তাঁরা। প্রাথমিকভাবে এক সপ্তাহের লকডাউন জারি করা হলেও প্রয়োজনে সময় বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কঠোরভাবে লকডাউন মেনে চলতে দেশের মানুষ সহযোগিতা করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।