সরকারি নির্দেশনা অমান্য, ১৫ জনের জরিমানা

22

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে চুয়াডাঙ্গার প্রশাসন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আবারও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে প্রশাসন। এক দিনেই বেড়েছে মোবাইল কোর্টের সংখ্যা তথা জরিমানার পরিমাণ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা না মানায় চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে গতকাল বৃহস্পতিবার ১৫ জনের কাছ থেকে ৫ হাজার ৫ শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ জেলার বিভিন্ন স্থানে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। দিনব্যাপী প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে জেলাব্যাপী। চুয়াডাঙ্গা নিচের বাজার থেকে শুরু করে সমবায় নিউ মার্কেট, আব্দুল্লাহ সিটি, ফাতেমা প্লাজা, প্রিন্স প্লাজা কিংবা আলী হোসেন সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হতে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি দোকান, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়।
এদিকে, রাত ৮টার পরে হঠাৎ করেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমবায় নিউ মার্কেটসহ শহরের বিভিন্ন মার্কেটে অভিযান চালায়। ওই সময় খোলা থাকা দোকান পাটগুলোর বিক্রেতা ও ক্রেতাদের মধ্যে হুড়োযুদ্ধ বেধে যায়। তাঁরা দোকানের সার্টার নামিয়ে যে যেদিকে পারে সেদিকে চলে যায়। মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্রেতা-বিক্রেতা শুন্য হয়ে যায় চুয়াডাঙ্গা সমবায় নিউ মার্কেটসহ শহরের প্রায় সকল মার্কেট।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, জনসমাবেশ বন্ধ করা, বাজার মনিটরিং এবং সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণের নেতৃত্বে দিনব্যাপী পুলিশের সহযোগীতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী ৬টি মোবাইল কোর্টে ১৪ টি মামলায় ১৫ জনের কাছ ৫ হাজার ৫শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
তবে প্রশাসনের তৎপরতা বাড়লেও, ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা বাড়েনি। চুয়াডাঙ্গা শহর জুড়ে ঈদ বাজারে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে গতকাল বৃহস্পতিবারও। সাধারণ মানুষ একেবারেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে নারাজ। শপিংমল-মার্কেটে লক্ষ্য করা গেছে স্বাস্থ্যবিধির অনীহা। ক্রেতা যেমন মানতে চাচ্ছেন না, তেমনি বিক্রেতারও দেখা যায়নি তৎপরতা। বিক্রেতাদের করোনা সংক্রমণে স্বাস্থ্যবিধি মানানোর জন্য বেশ কয়েকটি নির্দেশনা প্রতিপালন করতে বলা হলেও, কেউই নিচ্ছেন না তেমন কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ। দু-একটি দোকান বাদে কোথাও চোখে পড়েনি হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার। সবমিলিয়ে, চুয়াডাঙ্গা শহরজুড়ে আবারও সংক্রমণের বড় ধরনের শঙ্কায় দেখা গেছে।