চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ৬ জুন ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সরকারি খাল পাড়ের মাটি বিক্রির অভিযোগ

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুন ৬, ২০২১ ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গাংনী অফিস:
মেহেরপুর সদর উপজেলার বিলরুয়াকুলি/রুইমারী খাল পুনঃখনন কাজ শেষ না হতেই দুই পাড়ের মাটি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খালটি খননের মাধ্যমে খাল পাড়ের মানুষের শিশুরা সাতার কেটে গোসল করে, গৃহপালিত প্রাণিদের গোসল করানো হয়। দেশীয় মাছ ধরে পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও জীবিকা নির্বাহ করছে অনেক নিম্নআয়ের মানুষ। কিন্তু মাটি বিক্রি হলে খালের দুই পাড়ের পানি এসে আবারো খালটি বিলিন হয়ে যেতে পারে বলে অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তবে মাটি কাটার সাথে জড়িতরা বলছেন, সরকারি সকল নিয়ম মেনে এলাকার কৃষকের কথা বিবেচনা করে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে এ মাটি বিক্রয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাটি বিক্রির সাথে জড়িতরা।
মেহেরপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের তথ্যমতে, ৬৪ জেলার অভ্যান্তর ছোট নদী খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্প (১ম পর্যায়ে)-এর আওতায় মেহেরপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের প্যাকেজ নম্বর chua/meher w-13 (2020-21) id no.514574| ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নাসির উদ্দীন মোল্লা, ৭/১৯ এম এ রহিম রোড, চৌড়হাস কুষ্টিয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি ১ কোটি, ৭২ লাখ ১৩ হাজার টাকার চুক্তি মূল্যে কাজ শেষ করে। তবে শিডিউল অনুযায়ী এখনও খালের দুই পাড়ের কৃষি ও বসতভিটা এলাকার বিভিন্ন স্থানের পানি নিস্কাশনের জন্য কিছু কালভার্ট বসাতে বাকি আছে। তাছাড়াও খালের তীরবর্তী ঘাষ ও গাছ রোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, কাজ শেষ না হতেই যদি খালের দুইপাড়ের মাটি বিক্রি হয়ে যায়, তাহলে খালটি ভবিষ্যতে ধসে পড়তে পাড়ে। যার ফলে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মাটি কাটা শুরু হলে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা পানি উন্নয়ন কর্মকর্তা মেহেরপুরকে অবহিত করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমি মাটি কাটার অনুমতি দিয়েছি। কোনো সমস্যা হলে আমি দেখব।’
খাল পাড়ের মদনা গ্রামের শিশু আব্দুল্লাহ জানায়, ‘আগে এখানে গোসল করতে পারতাম না। খালে নতুন করে মাটি কাটায় আমরা বন্ধুরা মিলে গোসল করি। সাতার কাটি, মাছ ধরি। লুকোচুরি খেলা করি। খুব আনন্দ করি।’
খাল পাড়ের বিল্লাল হোসেন জানান, ‘খাল খননের মাধ্যমে আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি। গৃহপালিত পশুদের গোসল করানো, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাছ ধরে খাওয়া, গরমের সময়ে খালের পাড়ে বসে হাওয়া খাওয়া নানা সুবিধা আমরা ভোগ করি। কিন্তু খননকৃত মাটি কেটে নিয়ে যেতে চাইলে আমরা বাধা দিই। কিন্তু কোথায় কোথায় তা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তারা বলছেন আমরা ডিসি অফিস থেকে টেন্ডার নিয়ে মাটি কাটছি।’
মাটি কাটার দায়িত্বে নিয়োজিত বিপ্লব হোসেন বলেন, এলাকার কৃষকরা অভিযোগ করেন, বর্ষা মৌসুমে হাজার হাজার বিঘা জমির খেত পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে তারা ডিসি অফিসে অভিযোগ করলে ডিসি অফিস টেন্ডারের মাধ্যমে এ মাটি বিক্রি করেছে। আমরা সরকারের সকল নিয়মনীতি মেনে খালের পাড়ের মাটি সরাচ্ছি।
ঠিকাদার মো. নাসির উদ্দীন মোল্লা জানান, ‘মাটির কাজ শেষ করেছি। এখন শুধু ঘাস, গাছ লাগানো ও ইনলেট তৈরি করা বাকি আছে এবং ট্রাস্ক ফোর্স কর্তৃক মাটির পরিমাপও হয় নাই। এ অবস্থায় আমি সরেজমিনে গেলে দেখতে পায় খালের দুপাড়ের মাটি স্থানীয় ইটভাটাই প্রায় ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। আমার কাজ শেষ না হতেই মাটি বিক্রি কোনোভাবে কাম্য নয়। এটা করলে খালের দুপাড় ভেঙে পড়বে। এটা ভেবে মেহেরপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করেছি। মাটি যদি বিক্রয় করতে হয়, তাহলে আমার খালের পরিমাপ নিয়ে চূড়ান্ত বিল দিয়ে খালটি বুঝে নিয়ে সরকারি বিধি মোতাবেক টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রয় করার অনুরোধ জানাচ্ছি। তা না হলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
মেহেরপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহীনুজ্জামান জানান, ‘সরকারি সকল নিয়ম মেনে আমরা মাটি বিক্রয় করেছি। এখানে কোনো প্রকার অনিয়ম করা হয়নি। মেহেরপুর জেলার প্রশাসনসহ সবাই সম্মিলিতভাবে এ সিদ্ধান্ত। এলাকার অনেকে জানে না। আবার অনেকে কৃষি জমি বাঁচাতে আমাদের নিকট অভিযোগ করেছেন। যার ফলে সরকারি নিয়ম মেনে মাটি সরানো হচ্ছে।’ মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মুনসুর আলম খান বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মাটি অপসরাণ করা হচ্ছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।