চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১২ জানুয়ারি ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান

১৬ জানুয়ারি সারা দেশে বিরোধীদের সমাবেশ
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জানুয়ারি ১২, ২০২৩ ১২:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবেদন:

১০ দফা দাবিতে রাজধানীসহ সারা দেশে গতকাল বুধবার যুগপৎভাবে গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন দল ও জোট। গণ-অবস্থান থেকে অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নেতারা বলেছেন, জোর করে ক্ষমতায় থাকার দিন শেষ। জনগণ জেগে উঠেছে। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারের পতন ঘটানো হবে। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তি, নির্দলীয় সরকার গঠন, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ১০ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। ঢাকা ছাড়াও অন্য ৯টি বিভাগেও একই সময়ে এই অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। এ ছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্র মঞ্চ, পূর্বপ্রান্তে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, আরামবাগের ইডেন কমপ্লেক্স কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গণফোরাম, বিজয়নগর পানির ট্যাংকির কাছ থেকে ১২ দলীয় জোট, পুরানা পল্টনে প্রীতম হোটেলের কাছ থেকে সমমনা জাতীয়তাবাদী জোট এবং কারোান বাজারে এফডিসির কাছে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এলডিপি আলাদা আলাদাভাবে একই কর্মসূচি পালন করে। বিএনপির গণ-অবস্থান থেকে সরকার পতনে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১০ দফাসহ বিদ্যুতের মূল্য কমানোর দাবিতে আগামী ১৬ জানুয়ারি ঢাকাসহ সারা দেশের মহানগর-জেলা-উপজেলা-পৌর সদরে সমাবেশ-মিছিলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি সরকার পতন আন্দোলনে জনগণকে জেগে উঠার আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা জেগে উঠেছেন, বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠেছে। এখন আমাদেরকে আরো বেশি করে জেগে উঠতে হবে। আসুন আমরা জেগে উঠি। ১৯৭১ সালে যে স্বাধীনতার স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, এই স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার জন্য আসুন আমরা আজকে একটা নতুন বাংলাদেশ, আমাদের সন্তানদের একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি করার জন্য, তাদেরকে স্বপ্ন দেখানোর জন্য আমরা সবাই জেগে উঠি। তিনি বলেন, সবাই জেগে উঠে আমরা বাধ্য করি এই স্বৈরশাসকের দুঃশাসনের তখতেতাউস সরিয়ে সেখানে একটা জনগণের সরকার, জনগণের পার্লামেন্ট গঠন করি। আসুন সেই লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে চলি। মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা এগিয়ে আসতে শুরু করেছেন। আজকে যে অন্যায় হচ্ছে তার বিরুদ্ধে দেশের বরণ্যে ৬০ জন নাগরিক বিবৃতি দিয়েছেন। আমি তাদেরকে এ জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই, কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের গণমাধ্যমের সব কর্মী ভাইদের, তারা জনগণের আন্দোলনের খবর প্রচার করে জনগণকে জাগিয়ে তুলছেন।

আওয়ামী লীগ গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে: মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেকে রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচয় দেয়। আমরা জানি, তারা অত্যন্ত পুরনো পরিচিত দল। কিন্তু এখন তারা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছে। আওয়ামী লীগ গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সে জন্য তাকে এখন পুলিশের ওপর নির্ভর করে, আমলাদের ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জোর করে দখল করে রাখতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আজকে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। তারা এই সরকারকে সরিয়ে দেয়ার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য এবং মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য সব দল একমত হয়েছে। ১০ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে তারা এই আন্দোলনকে সফল করবে। তিনি বলেন, ২৭ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। আমরা খুব পরিষ্কার করে বলেছি, এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পর নতুন নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন করতে হবে। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে, তারা রাষ্ট্র ধ্বংস করে দিয়েছে। সে জন্য আমরা বলেছি, রাষ্ট্র সংস্কার করতে হবে।

রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন বিষয় যেমন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, তাদের মেয়াদ দুইবার নির্ধারণ করাসহ বিভিন্ন সংস্কারের দিকগুলো তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

আমরা টোকা দিয়ে নয়, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে চাই : মির্জা আব্বাস

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে স্থায়ী কমিটির সদ্য কারামুক্ত সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা টোকা দিয়ে নয়, ধাক্কা দিয়ে নয়, একটা সঠিক সাচ্চা ভালো নির্বাচনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটাতে চাই, আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটাতে চাই, আমরা নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করে এই সরকারের পতন ঘটাতে চাই। আমরা কোনো রকম উশৃঙ্খল-বিশৃঙ্খলায় বিশ্বাস করি না। তিনি বলেন, সরকারকে বলব, দয়া করে কোনো উসকানি দেবেন না। যদি কোনো উসকানি দেন এর ফল কিন্তু ভালো হবে না। সুতরাং সাবধান হয়ে যান। বিএনপির ১০ দফা দাবি মেনে নেন এবং যদি ১০ দফা দাবি মেনে নিয়ে আপনারা নির্বাচন করেন, ভোট পান, ক্ষমতায় থাকুন আর অসুবিধা নেই। কিন্তু জোর করে আর ক্ষমতায় থাকার দিন শেষ। জোর করে আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না ইনশা আল্লাহ।

গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে হবে : ড. মোশাররফ

সভাপতির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা জানি, এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকলে এই ১০ দফা মানবে না। তাই আমাদের সামনে একটিই চ্যালেঞ্জ, এই সরকারকে বিদায় করতে হবে। আগামী দিনে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে। আজকে এই সরকার শুধু বাংলাদেশের জনগণের কাছে নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও ধিকৃত। ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু এবং উত্তরের আমিনুল হকের সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আফরোজা খানম রীতা, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, শিরিন সুলতানা, রকিবুল ইসলাম বকুল, মীর নেওয়াজ আলী, সাইফুল আলম নীরব, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, মজিবুর রহমান, নিপুণ রায় চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন। অঙ্গসংগঠনের মধ্যে মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, হেলেন জেরিন খান, মহানগর বিএনপির নবী উল্লাহ নবী, যুব দলের মামুন হাসান, মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের এস এম জিলানী, রাজিব আহসান, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, শহিদুল ইসলাম বাবুল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, শ্রমিক দলের মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম, তাঁতী দলের কাজী মুনীরুজ্জামান মুনীর, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, উলামা দলের মাওলানা আবুল হোসেন, ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাইফ মাহমুদ জুয়েল, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের কাদের গনি চৌধুরী, জিয়া পরিষদের আব্দুল কুদ্দুস, ড্যাবের আবদুস সালাম, অ্যাবের রিয়াজুল ইসলাম রিজু প্রমুখ নেতা বক্তব্য রাখেন।

এই কর্মসূচিতে বিএনপির মনিরুল হক চৌধুরী, আসাদুজ্জামান রিপন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, ডা: রফিকুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, ডা: দেওয়ান মো: সালাহউদ্দিন, রেহানা আক্তার রানু, শাম্মী আখতার, কাজী আবুল বাশার, মোরতাজুল করীম বাদরু, মাহবুবুল হাসান ভূঁইয়া পিঙ্কু, মাহমুদুর রহমান সুমন, আনু মোহাম্মদ শামীম আজাদ, অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, আকরামুল হাসান মিন্টু প্রমুখ নেতা উপস্থিত ছিলেন। অবস্থান কর্মসূচি উপলক্ষে নয়াপল্টনের বিভিন্ন গলিতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।