সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রা : ইতিহাসের বৃহত্তম বাজেট পাস

366

সমীকরণ ডেস্ক: পাস হলো বর্তমান সরকারের শেষ বাজেট। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়। নতুন বাজেটের আকার চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে সাত দশমিক আট শতাংশ। মূল্যস্ফীতি পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশ। নতুন বছরের এডিপির (বার্র্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) আকার ধরা হয়েছে এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা।
এর আগে গতকাল সকাল থেকেই বাজেট পাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সকাল ১০টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। মঞ্জুরি দাবির ওপর আলোচনার সুযোগ নিয়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা শিক্ষাখাতে অনিয়ম-দুর্নীতি, অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যর্থতা, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা সংকট, দুর্যোগ মোকাবিলা প্রস্তুতর অভাব ও রেলখাতের অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন কাজের সমালোচনা করেন। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্যের উপস্থিতিতে অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজটের ওপর ৫৯টি মঞ্জুরী দাবির বিপরীতে ৪৪৮টি ছাঁটাই প্রস্তাব আনা হয়। সরকার ও বিরোধী দলের হুইপের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী পাঁচটি মঞ্জুরি দাবি আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়। এই আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় পার্টির মো. ফখরুল ইমাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, নূরুল ইসলাম ওমর, মোহাম্মদ আব্দুল মুনিম চৌধুরী, নূরুল ইসলাম মলিন, সেলিম উদ্দিন ও বেগম রওশন আরা মান্নান এবং স্বতন্ত্র সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী।
র্দীঘ প্রায় চার ঘণ্টা আলোচনা শেষে নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস হয়। এর আগে আলোচনা শেষে মঞ্জুরি দাবিগুলো কণ্ঠভোটে সংসদে গৃহীত হয়। এরপর অর্থমন্ত্রী ‘নির্দিষ্টকরণ বিল-২০১৮’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে সর্বসম্মতিক্রমে তা পাস হয়। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকারের এটি শেষ বাজেট।
এর আগে গত বুধবার সংসদে পাস হয়েছে অর্থবিল। রাজস্ব খাতে বেশ কিছু সংশোধনী এনে পাস হয়েছে নতুন অর্থবিল। গত ৭ জুন জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। নতুন অর্থবছরের বাজেট পাসের মধ্য দিয়ে শেষ হলা দশম সংসদের একুশতম অধিবেশন। গত সাড়ে নয় বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের চলতি মেয়াদের শেষ এই বাজেটে স্বাভাবিকভাবেই জনতুষ্টির উদ্যোগ বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে। ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার এই বাজেটের মধ্যে অর্থমন্ত্রী রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন তিন লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা আদায় করা যাবে বলে আশা করছেন মুহিত। বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। আর পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৮৪ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। এই বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি দেখানো হয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। ঘাটতির এই পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) চার দশমিক নয় শতাংশ।
এই ঘাটতির মধ্যে চার হাজার ৫১ কোটি টাকা বৈদেশিক অনুদান থেকে মেটানোর আশার কথা বলেছেন মুহিত। ওই অনুদান পাওয়া গেলে ঘাটতি থাকবে এক লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা, যা জিডিপির চার দশমিক সাত শতাংশ। গত অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটের চেয়ে ১৬ শতাংশ ব্যয় বাড়িয়ে নতুন অর্থবছরের ব্যয়ের ফর্দ তৈরি করেছেন মুহিত, যা বিদায়ী বছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি। টানা ১০টি জাতীয় বাজেট দেওয়া ৮৫ বছর বয়সী মুহিতের এবারের বাজেট নিয়ে বড় কোনো ক্ষোভ-বিক্ষোভ হয়নি। তবে ব্যাংক খাতের দুরবস্থা নিয়ে নিজ দলের সংসদ সদস্যসহ জাতীয় পার্টির সাংসদদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর মুহিত তার সংশোধিত প্রস্তুাব তুলে ধরেন।