সমুদ্রের যেখানে গেলে কেউ ফেরে না

406

বিশ্ময় ডেস্ক: ভৌতিক সিনেমায় অথবা গল্পে অনেক জায়গার কথা শোনা যায়, যেখানে গেলে কেউ ফিরে আসে না। সেই গল্প দেখে বা শুনে ভয়ে আমাদের গাঁ শিউরে ওঠে। কিন্তু বাস্তবে এমন জায়গা রয়েছে যেখানে কোনো মানুষ বা প্রাণি একবার গেলে আর সত্যি সত্যি জীবিত ফেরে না। মেক্সিকো উপসাগরের তলদেশে একটি স্থান আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা জায়গাটির নাম দিয়েছেন ‘জাকুজ্জি অব ডিসেপেয়ার’। এখানকার পানি বেশ গরম এবং বিষাক্ত। মানুষ অথবা কোনো প্রাণি যদি এ জায়গা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সঙ্গে সঙ্গেই তার মৃত্যু ঘটে। জায়গাটি নিয়ে রয়েছে রহস্য। বিজ্ঞানীরা এর কূল কিনারাও খুঁজে বের করেছেন। তবে কোনো ভৌতিক বা অলৌকিক কারণে নয়। বিষাক্ত কিছু পদার্থের কারণেই সেখানে গেলে জীবের মৃত্যু ঘটে। ২০১৪ সালে রিমোট কন্ট্রোল রোবটের মাধ্যমে একটি সামুদ্রিক কোরাল দিয়ে পরীক্ষা চালান টেমপল কলেজের জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক এরিক করডেস। তখন তিনি এই রহস্যজনক লেকটির সন্ধান পান। এরপর ২০১৫ সালে জায়গাটি ভালো করে দেখার জন্য তিনি আরো তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। তিনি সেখানে কী দেখেছিলেন? এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আপনি যখন সমুদ্রের নিচে যাবেন তখন দেখবেন একটি হ্রদ অথবা নদী বয়ে যাচ্ছে। মনে হবে আপনি এই গ্রহে নয়, অন্য কোথাও আছেন। আমরা একটি গিরিখাতের মতো স্থান থেকে এটি দেখছিলাম। আমরা দেখলাম বাধের মতো লবণের স্তরযুক্ত একটি দেয়াল। এটিকে বেগুনি, সাদা ও কালো রঙের অসাধারণ একটি জলাশয় মনে হচ্ছিল।’ ওশানোগ্রাফি নামে একটি জার্নালের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই হ্রদটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৩০০ ফুট নিচে। ১০০ ফুট জুড়ে অবস্থিত এই হ্রদটি ১২ ফুট গভীর। লেকটির উষ্ণতা ৬৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট। কিন্তু এর আশেপাশের পানির উষ্ণতা ৩৯ ডিগ্রী ফারেনহাইট। এর তলদেশে দেখা যায় কাঁকড়া মরে পড়ে আছে। তবে গরমে নয় বরং অতিরিক্ত লবণাক্ততার জন্য এদের মৃত্যু হয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। কর্ডেস জানিয়েছেন, সেখানকার পানি উপসাগরের পানির তুলনায় ৪-৫ গুণ বেশি লবণাক্ত। জায়গাটিতে কয়েকটি মিশ্র উপাদান রয়েছে যেমন-লবণাক্ত উপাদান, হাইড্রোজেন সালফাইড, তৈলাক্ত ভূগর্ভস্ত আকরিক, উপসাগরের তলানি ইত্যাদি। এগুলো একসঙ্গে মিশে একটি বিষাক্ত উপাদানের সৃষ্টি করে। এছাড়া এর নিচ থেকে মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ হয়। ফলাফল অক্সিজেনের অভাব এবং বিষক্রিয়ার ফলে কাঁকড়াসহ কোনো প্রাণী সেখানে গেলে তার মৃত্যু ঘটে।