সমাবেশ মিছিলের কর্মসূচি বিএনপির

92

সমীকরণ প্রতিবেদন:
স্বাধীনতা দিবসে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে দুই দিনের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। আগামীকাল সোম ও পরদিন মঙ্গলবার দেশব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করবে দলটি। তবে হেফাজতে ইসলামের আজকের সকাল-সন্ধ্যা হরতালে আনুষ্ঠানিক কোনো সমর্থন জানায়নি বিএনপি। গতকাল শনিবার বিকালে বিএনপি স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুই দিনের এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে সরকার তাদের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটাল। ২৬ মার্চ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশের নির্বিচার লাঠিচার্জ, গুলিবর্ষণ এবং একই সঙ্গে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর আক্রমণের প্রতিবাদে যে রক্ত ঝরেছে বায়তুল মোকাররম, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায়Ñ এটা নিঃসন্দেহে ৫০ বছরের বাংলাদেশের ইতিহাসে জঘন্যতম একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। এটা নজিরবিহীন ঘটনা। এর আগে বিকাল ৩টায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে মানুষ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আগামী ২৯ মার্চ ঢাকাসহ সব মহানগরীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং পরদিন ৩০ মার্চ জেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল অথবা সমাবেশের কর্মসূচি আমরা ঘোষণা করছি। হেফাজতে ইসলামের আজকের সকাল-সন্ধ্যা হরতালের প্রতি বিএনপির সমর্থন আছে কিনা?
এ প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা যেটা প্রতিবাদ করছি, বিক্ষোভ মিছিল করছি সেটা হচ্ছে স্বাধীনতা দিবসের দিনে মানুষ হত্যার প্রতিবাদ। প্রত্যেকটা সংগঠনের, প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার আছে প্রতিবাদ করা বা তার মত প্রকাশ করার। সেই মত প্রকাশ করার কারণে যখন গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, আমরা সেই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করছি, আমরা এর বিরুদ্ধে কর্মসূচি ঘোষণা করছি। তিনি জানান, ২৬ মার্চ মানুষ হত্যা ও পুলিশি হামলার প্রতিবাদে রোববার (আজ) জাতীয়তাবাদী যুবদল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সারা দেশে বিক্ষোভ করবে। তিনি জানান, এ তিন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আজও (গতকাল) বিক্ষোভ করতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে পুলিশি হামলা ও গ্রেফতারের মুখে পড়েছে। হবিগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপিসহ গ্রেফতার নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাবি করেন তিনি।