সব উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি হবে

326

d332579a01c313c8a9230276d6c8ba77-4সমীকরণ ডেস্ক: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন, দেশের যেসব উপজেলায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ নেই, সেসব উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি করে কলেজ সরকারিকরণের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম চলছে। ইতিমধ্যে ২৮৫টি বেসরকারি কলেজ সরকারিকরণের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সম্মতি পাওয়া গেছে। সে আলোকে শিগগিরই পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে খুলনার সাংসদ এস এম মোস্তফা রশিদীর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়। সরকারি দলের ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ‘শিক্ষা আইন’ এর খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খসড়াটি নীতিগত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।
মন্ত্রী জানান, সরকারি ও বেসরকারি খাতের শিক্ষাঙ্গণের মধ্যে পাঠদানের এবং পাঠ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য থাকার সুযোগ নেই। এরপরও অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের উন্নত শিক্ষা অর্জনের কৌশল হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহেন্সমেন্ট প্রজেক্ট (সেকায়প) এর আওতায় সারা দেশে গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ২৯ লাখ ৭০ হাজার ২৫২টি অতিরিক্ত ক্লাশ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট ৮ হাজার ৯১৯ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রকল্পটির আওতায় চার হাজার ৮০০ জন অতিরিক্ত শিক্ষক কর্মরত আছেন। রহিম উল্লাহর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপনের লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে ১০০টি উপজেলার মধ্যে ৪২ টির নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং চারটির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩৮৯টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপনের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজির প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশে মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১: ৪২, উচ্চমাধ্যমিকে ১: ১৪ ও ডিগ্রিতে ১: ২৬। মো. আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে বছরে দুটি মডেল টেস্ট গ্রহণের নিয়ম আছে। পঞ্চম শ্রেণীর নিয়মিত পরীক্ষায় যে হারে ফি গ্রহণ করা হয় সেই হারেই মডেল টেস্ট পরীক্ষার ফি গ্রহণ করার নির্দেশনা আছে। কোনো বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুবিদ আলী ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের যোগ্য বিবেচিত ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৬ হাজার ১২২টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। বাকি ৭১টি বিদ্যালয় মামলা, জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিলম্ব হচ্ছে। জাতীয় পার্টির এ কে এম মাঈদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দেশের কিছু সরকারি ও বেসরকারি কলেজে নিজস্ব অর্থায়নে কার্ড পাঞ্চিং চালু করা হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ উদ্যোগে এ কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারে। সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এরূপ কার্যক্রম চালু করার বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে।” মামুনুর রশীদের কিরণের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশে বর্তমানে ১৯ হাজার ৮৪৭টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে ৩৩৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১২টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি এবং অবশিষ্ট ১৯ হাজার ৫১০টি প্রতিষ্ঠান বেসরকারি। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মিলনের প্রশ্নের জবাবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, রাজউক থেকে প্লট না পাওয়া সংসদ সদস্যদের সংখ্যা সংরক্ষিত নেই। তবে সংসদ সদস্যদের জন্য পূর্বাচল নতুন প্রকল্পে ১৫৫টি এবং সম্প্রসারিত উত্তরা ৩য় পর্ব প্রকল্পে ৮৩টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে ১৯ জন সংসদ সদস্যকে প্লট বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।