সবুজ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ

46

কেরুজ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক নির্বাাচন সম্পন্ন
দর্শনা অফিস:
পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ফিরোজ আহম্মেদ সবুজ সভাপতি ও মাসুদুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
সভাপতি পদে ফিরোজ আহম্মেদ সবুজ (হারিকেন) প্রতীকে ৫৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৈয়ব আলী ৪৯৩ ভোট পেয়েছেন। ফিরোজ আহম্মেদ সবুজ নির্বাচিত হয়ে তাঁর পিতা সাবেক সভাপতি আজিজুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁেদ ফেলেন। সহসভাপতি পদে মোস্তাফিজুর রহমান (চেয়ার) প্রতীকে ৫ শ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফারুক হোসেন (মোরগ) প্রতীকে ৩১৯ ভোট পেয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে মাসুদুর রহমান (বাইসাইকেল) ৫৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মনিরুল ইসলাম প্রিন্স (ছাতা) প্রতীকে ৪৯২ ভোট পেয়েছেন। এ নিয়ে মাসুদুর রহমান সাধারণ সম্পাদক পদে ৮ বার কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী পদে নির্বাচিত হলেন।
সহসাধারণ সম্পাদক পদে খবির উদ্দিন ৪০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আকরাম হোসেন ৩৮৫ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া সদস্য পদে ১ নম্বর ওয়ার্ডে (প্রশাসন ও হিসাব বিভাগ) দুজন। এদের মধ্যে সালাহউদ্দিন (ডাব) প্রতীকে ৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম খান (বালতি) প্রতীকে ৪৪ ভোট পেয়েছেন। ২ নম্বর ওয়ার্ডে (চোলাই কারখানা বিভাগ) দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদের মধ্যে বাবর আলী (বেলচা) প্রতীকে ৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমিনুল ইসলাম (ডাব) প্রতীকে ৬০ ভোট পেয়েছেন। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে (পরিবহন বিভাগ) দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম (টর্চ লাইট) প্রতীকে ১১৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুল ইসলাম (ডাব) প্রতীকে ৫০ ভোট পেয়েছেন। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে (ইক্ষু সংগ্রহ) দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদের মধ্যে মতিয়ার রহমান (ডাব) প্রতীকে ৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়মিন হক (আখের আটি) প্রতীকে ৪৬ ভোট পেয়েছেন।
৫ নম্বর ওয়ার্ডে (ইক্ষু উন্নয়ন) দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদের মধ্যে সাইফুদ্দিন (ডাব) প্রতীকে ৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হারিজুল ইসলাম (আখের আটি) প্রতীকে ৩৮ ভোট পেয়েছেন। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে (উৎপাদন) চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদের মধ্যে দুজন বিজয়ী হয়েছেন। এঁরা হলেন- হাফিজুর রহমান (বেলচা) প্রতীকে ১৭৬ ও মজিবর রহমান (ডাব) প্রতীকে ৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অপর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল ইসলাম (আখের আটি) প্রতীকে ৭০ ও মোহন আলী (হাতুড়ি) প্রতীকে ৪৫ ভোট পেয়েছেন। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে (প্রকৌশলী) ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদের মধ্যে মফিজুর রহমান (বেলচা) প্রতীকে ১৪৯ ভোট ও আজাদ আলী (হাতুড়ি) প্রতীকে ৭৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অপর দুজন প্রার্থী জহিরুল ইসলাম (আখের আটি) প্রতীকে ৫৮ ও ইদ্রিস আলী (কাঁঠাল) প্রতীকে ৪৫ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে ১৩ পদের বিপরীতে ১ হাজার ৮৯ জন ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৭৭ জন ভোটার তাঁদের ভোট প্রদান করেন। এর মধ্যে ১১টি ভোট বাতিল হয়। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করার পর বিজয়ী প্রার্থীর সর্মথকেরা কেরু মিল এলাকায় আনন্দ মিছিল বের করেন।