সবকিছুতেই করোনার প্রভাব, তবুও কিস্তির চাপ

173

সরকারি ঘোষণার কোনো কার্যকারিতা নেই, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ
সমীকরণ প্রতিবেদক:
বিশ্বের সব কিছুতেই পড়েছে করোনার প্রভাব। তবুও কমছে না কিস্তির চাপ। সারা দিনে কোনো বেচাকেনা নেই। কী খাব, কী করে বাঁচব, এ নিয়েই চিন্তা সারাক্ষণ, এরপরও মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা ব্যাংক, এনজিও ও সুদ কারবারিদের কিস্তির চাপ। গতকাল সোমবার দুপুরে এমনটিই বলছিলেন চুয়াডাঙ্গা শহরের এক দোকানি। এদিকে, করোনা পরিস্থিতির কারণে সারা দেশে এনজিও ঋণের কিস্তি ছয় মাসের জন্য শিথিল করেছে ক্ষুদ্রঋণের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)। কিন্তু চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা, জীবননগরসহ জেলাজুড়ে এ নির্দেশের কোনো কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে না। এমআরএ বলেছে, আগামী জুন পর্যন্ত ঋণগ্রহিতা কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে সেটিকে খেলাপি বলে শ্রেণিকরণ করা যাবে না। গ্রামবাংলার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরকারের এ ঘোষণা না জানার বা না বোঝার কারণে তাঁদের মাথার ওপর থেকে এই দুঃসময়েও কিস্তির বোঝা কমছে না। এ ছাড়া কিস্তির টাকা আদায়কারীরা জনসমাগম ঘটিয়ে তুলছেন সাপ্তাহিক কিস্তি। এতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। সব কিছুকে থোড়াই কেয়ার করেই চলছে এসব ব্যাংক, এনজিও প্রতিনিধিরা। তাই এ বিষয়ে এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন নাগরিকেরা।
জানা গেছে, সরকার যেখানে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু বন্ধের পথে, সেখানে বহাল তবিয়তে চলছে ব্যাংক, এনজিও ও সুদ কারবারিদের কিস্তি আদায়। করোনাভাইরাসের প্রভাবের পর থেকে চুয়াডাঙ্গায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্য সব কিছুর বেচাকেনা প্রায় একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে। তারপরও থেমে নেই কিস্তি আদায়। বাজারের প্রত্যেক ব্যবসায়ী কমপক্ষে চার-ছয়টি এনজিওর ঋণের জালে জড়িয়ে। তাই ব্যবসা-বাণিজ্য ও আয় রোজগারের এই মন্দাবস্থায় কিস্তির চাপে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষেরা দিশেহারা। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তাঁরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন চা ও মুদি দোকানি জানান, করোনাভাইরাসের প্রভাবে এখন আর তেমন বেচাবিক্রি হচ্ছে না। কী খেয়ে বাঁচবেন, তা নিয়েই দিশেহারা তাঁরা। তবুও রয়েছে কিস্তির চাপ। তাঁরা জানান, এনজিও ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক, সিএসএস, জাগরণী চক্র, এসডিএফ, আত্মবিশ্বাস, বিজ ও দিশা থেকে বিভিন্ন অঙ্কের ঋণ নেওয়া আছে তাঁদের। তাই প্রতিদিনই কোনো না কোনো এনজিওর কিস্তির তাড়া থাকেই। এ অবস্থায় তাঁরা কিস্তির চাপে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন। তাই তাঁরা এ মুহূর্তে দেশের ঋণদানকারী সব ব্যাংক, এনজিও, সমিতি ও সুদ কারবারিদের কিস্তি ও সুদের টাকা বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ ব্যাপারে কয়েকটি এনজিও ও ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে তাঁরা জানান, এখনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা আসেনি। তাই তাঁদের পক্ষে যত খারাপ অবস্থাই হোক, কিস্তি আদায় স্থগিত রাখা সম্ভব নয়। যখন ওপরের নির্দেশনা আসবে, তখনই কিস্তি আদায় বন্ধ করা হবে।