চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ১৫ অক্টোবর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সন্তান জন্মের পর গায়ে আগুন দেয়া সেই মায়ের মৃত্যু

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
অক্টোবর ১৫, ২০২১ ৬:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যৌতুকের জন্য শশুর বাড়ির অ-মানুষিক নির্যাতন সইতে না পেরে নিজের গায়ে কেরসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সুরাইয়া নেওয়াজ লাবন্য (১৭) নামের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ। এ অবস্থায় মৃত সন্তান জন্ম দিয়ে ১২ ঘণ্টা পর নিজেও পরপারে চলে গেলেন লাবণ্য।

বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় লাবণ্যের মৃত্যু হয়। লাবণ্য নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার রহিমপুর গ্রামের গৃহশিক্ষক আরিফুল ইসলামের একমাত্র মেয়ে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আইয়ুব হোসাইন বলেন, অন্তঃসত্ত্বা সুরাইয়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ওই নারীর শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। আর দগ্ধের কারনেই গর্ভেই মারা যায় নবজাতকটি। তিনি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে একটি মৃত সন্তান (কন্যা) প্রসব করা করেন। এর ১২ ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাবণ্যেরও মৃত্যু হয়।

সুরাইয়ার বাবা আরিফুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহ জেলার দোবাউরা উপজেলার আবু তাহের মিস্তিরির ছেলে প্রাইভেটকার চালক শাহিন আলমের সাথে প্রেমের সম্পর্কে পর উভয় পরিবারের সম্মতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে গতবছরের ২ অক্টোবর তাদের বিয়ে হয়।

আরিফুল ইসলাম আরও বলেন, বিয়ের পর থেকে লাবণ্য শশুর বাড়ি ময়মনসিংহে থাকতো। বিয়ের পর কিছু দিন ভালোই কাটছিলো তাদের সংসার জীবন। এরপর থেকে নেমে আসে তাদের সংসারে কালো ছায়া। ততোদিনে তার গর্ভে আসে সন্তান।

গর্ভবতী হওয়ার পর থেকে শুরু হয় মানুষিক নির্যাতন। চাওয়া হয় যৌতুক। দুই লাখ টাকা দাবি করতেন তারা ব্যাবসা করার জন্য। দেওয়া হতো না চাহিদা অনুযায়ী খবার। অকথ্য ভাষায় বকাঝকা করতো তারা।

মেয়েটি সবই সহ্য করতো উল্লখ করে তিনি বলেন, কখনো এসব আমাদের জানাতো দিতো না। সে মনে করতো এসব কথা শুনলে হয়তো তার বাবা চিন্তায় চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়বে। তার মা আফরোজা তাকে সাড়ে তিন বছর রেখে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান। সেই থেকে মেয়েটি ময়মনসিংহে তার নানা-নানির কাছেই বড় হয়।

লাবণ্যের অসুস্থতার খবর শুনে তার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে দেখি মেয়েটি খুবই অসুস্থ। তাই গত ১ আগস্ট সেখান থেকে আমার কাছে নিয়ে আসি। পরে এসব কিছু জানতে পারি। এতেই তারা শান্ত হয়নি। তার স্বামী তাকে প্রতিনিয়ত মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতো, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

এর মধ্যে একদিন গত শুক্রবার (৮ অক্টোবর) বিকালে সকলের অগোচরে রান্না ঘরের পেছনে গিয়ে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে চিৎকার শুরু করে সে। তার চিৎকার শুনে তার দাদী সাদিয়া খাতুন দৌড়ে গিয়ে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় সেখান থেকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার বিকাল পাঁচটার দিকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিউটের ভর্তি করান।

বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানিয়ে ছিলেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখেন আমার মেয়ের অবস্থা খুবই খারাপ ছিলো। সে সময়ে আমার মাথায় কিছুই কাজ করছিলো না। আমি স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে অভিহিত করে মেয়ে নিয়ে ঢাকায় চলে আসি।

লাবণ্যের বাবা আরও জানান, বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) তার গর্ভে থাকা মৃত সন্তান প্রসব হওয়ার পর, সেই নবজাতককে আজিমপুরে দাফন করে আসছি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আজ মেয়েটির এই পরিনতির জন্য তার স্বামী ও স্বামীর বাড়ির লোকজন দায়ী। তিনি অভিযুক্তদের বিচারের দাবি জানান এবন মামলা করবেন বলা জানান।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ পার্থ শংকর পাল। তিনি বলেন রাত সাড়ে ৭ টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ বাচ্চু মিয়া বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।