সততার পথচলায় তিন পেরিয়ে চারে…!

464

-হুসাইন মালিক
দৈনিক সময়ের সমীকরণ তিন বছরের পথচলায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহসহ এই অঞ্চলের সত্য, বস্তুনিষ্ঠ ও নির্যাতিত-পীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছে। পত্রিকাটি সাহসের সাথে সততার পথে বারংবার পরীক্ষা দিয়ে শুধু উজ্জলদৃষ্টান্তই স্থাপন করেনি বরং পাঠকের অনুকরণীয় দৈনিকে পরিণত হয়েছে। সেই ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে দৈনিক সময়ের সমীকরণ’র অধ্যায়ের সূচনা হয়। আমি তখন ঢাকাতে মাস্টার্সে অধ্যায়নরত। আঞ্চলিক সাংবাদিকতায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ইচ্ছা থেকে একটি ভিন্নধারার আঞ্চলিক পত্রিকার প্রকাশ ঘটাতে কাজ শুরু করি। এরপরের গল্পটা কারো অজানা নয়। যাইহোক ২০১৫ সালে ২৩ শে নভেম্বরে চুয়াডাঙ্গার সংবাদপত্রের তালিকায় নতুন একটি সংবাদপত্রের নাম যোগ হয়। প্রথমে পত্রিকাটির কার্যত্রম অনলাইনে শুরু হলেও ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর হতে কাগুজে দৈনিক হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। একঝাঁক উদ্যোমী তরুণ কর্মীদল নিয়ে নিরলস পরিশ্রমে অতি অল্প সময়ের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে “সততাই আমাদের শক্তি” স্লোগান নিয়ে পথচলা দৈনিক সময়ের সমীকরণ। ইতোমধ্যে বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও ব্যতিক্রমী সংবাদ পরিবেশনের কারণে পাঠকদের কাছে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন নয়, সামাজিক ও সেবামূলক কাজ করে এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এখন সমাদৃত। এই অঞ্চলের গুনীজনদের সম্মাননা দিয়ে পাঠক ও সুধীমহলে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদকসহ কর্মরতসহ সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া প্রতিদিনই ব্যতিক্রমী পরিবেশনা নিয়ে পাঠকের সামনে হাজির হয়ে এই অঞ্চলের আঞ্চলিক সাংবাদিকতায় ভিন্নতা এনেছে দৈনিক সময়ের সমীকরণ। তথ্য প্রযুক্তিতেও অন্যসব আঞ্চলিক পত্রিকাগুলো থেকে এগিয়ে রেখে আধুনিক ভাবনায় নিজেদের অবস্থান সবার উপরেই ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে সময়ের সমীকরণ। পত্রিকার পরিচিত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বেশকয়েকটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে; তারমধ্যে কয়েকটি বাস্তবায়নও সম্ভব হয়েছে। ব্যতিক্রমধর্মী উপস্থাপনা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের ফলে পাঠকদের আস্থা অর্জন করতেও সক্ষম হয়েছে পত্রিকাটি। আরো অনেকদুর এগিয়ে যেতে ও যুগযুগ ধরে বেচেঁ থাকতে পত্রিকায় সংশ্লিষ্ট কারো যেন আন্তরিকতার কোন কমতি নেই। সম্পাদক ও প্রকাশক শরীফুজ্জামান শরীফের তত্তাবধানে প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপনের নেতৃত্বে একঝাঁক সৎ ও পরিশ্রমী উদ্যোমী সংবাদ কর্মীদের প্রচেষ্টায় দৈনিক সময়ের সমীকরণ চুয়াডাঙ্গাসহ এই অঞ্চলের সংবাদপত্র জগতে ৩ বছরেই নিজের অবস্থান প্রথমসারিতে নিশ্চিত করেছে ব্যতিক্রমী সব আয়োজন যুক্ত করে। তারই ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ অঞ্চলে প্রথমবারের মতো পত্রিকাজগতে প্রযুক্তির শেষ ধাপ হিসেবে দৈনিক সময়ের সমীকরণ ই-পেপার সংযোজন করেছে। কাগজের মূল প্রকাশনা কম্পিউটার, স্মার্ট মোবাইল ফোনে িি.িবংড়সড়ুবৎংড়সরশড়ৎড়হ.পড়স ভিজিট করলে দেখা যাবে বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে। এখানেই থেমে নেই সময়ের সমীকরণের প্রচেষ্টা। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশ ও বিদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রকাশ করার জন্যে িি.িফধরষুংড়সড়ুবৎংড়সরশড়ৎড়হ.পড়স সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরী করা হয়েছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল। মোবাইলেও পত্রিকাটির অনলাইন নিউজ পোর্টালের সর্বশেষ সংবাদ পড়া যাবে। এক্ষেত্রে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট কানেকশন থাকলেই চলবে। আলাদা কোন ইমেজ বা সফটওয়্যার ইনস্টল করা লাগবে না।
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইহের জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে দীর্ঘ ৩ বছর পথচলা শেষে পুরো সমীকরণ পরিবার এটা উপলব্ধি করতে পেরেছে; সততা নিয়ে সত্য প্রকাশের রাস্তা পিচ ঢালা নয়। ছোট-বড় খোয়া আর কাটায় বিস্তৃর্ণও বটে!
পত্রিকায় সংশ্লিষ্ট সবার কথা লিখলাম না কারণ নিজের পরিবারের সদস্যদের সমালোচনা বা মূল্যায়ন নিজে করা যায় না। তবে সম্পাদকের ভাষায় আমি ছোট কিন্তু বড় দায়িত্ব পালন করি। আমাকে আরও সতর্কভাবে নিজেকে পরিচালনা করতে হবে কারণ পত্রিকার সুনাম বা বদনাম অনেকটা আমার উপর নির্ভর করে। আর প্রধান সম্পাদকের কথা কী বলবো আমাকে সকল কাজে যোগ্য করে তুলতে, দৃশ্যমান ভালোবাসার বর্হিপ্রকাশ না ঘটিয়ে মেজাজের তারতম্যে সর্বদাই চেষ্টা করে চলেছেন আমাকে পত্রিকার যোগ্য বার্তা সম্পাদক হিসেবে গড়ে তুলতে। দৈনিক সময়ের সমীকরণ’র পথচলার সাথী হয়ে অনুপ্রেরণা দেওয়া সকলের প্রতি রইল কৃতজ্ঞতা।