চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটাতে রাত পোহালেই চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ নির্বাচন আ.লীগ ২ ভাগে বিভক্ত: বিএনপির ভোটাররা হতে পারে জয়ের নিয়ামক

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬ ২:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

indexএমএ মামুন/উজ্জল মাসুদ: রাত পেরুলেই সারাদেশের ৬১ জেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত হবে জেলা পরিষদ নির্বাচন। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আ.লীগ, জাতীয় পার্টিসহ ২জন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশগ্রহন করছে। আ.লীগ দলীয় প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকের মনজু ও স্বতন্ত্র কিন্তু আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত মোবাইল প্রতীকের খোকনের মধ্যে আগামীকালের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহন না করলেও ভোটের লড়াইয়ে প্রার্থীদের উত্তীর্ণের নিয়ামক হবে বিএনপি দলীয় ভোটারেরা। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ৫২৮ ভোটারের মধ্যে বিএনপি দলীয় ভোটারের সংখ্যা দেড় শতাধিক। আর এই দেড় শতাধিক ভোটারের ভোটই নির্ধারণ করবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী প্রার্থীদের জয়-পরাজয় বলেও অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন । চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীসহ চেয়ারম্যান পদে ৪জন, সাধারণ সদস্য পদে ৫৮ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ২৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মঞ্জু (মোটরসাইকেল), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়ামে সদস্য শেখ শামসুল আবেদীন খোকন (মোবাইল), স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী মামুনুর রশীদ আঙ্গুর (ঘোড়া) ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন (আনারস) প্রতীক প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আছেন। তবে, বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা করতে দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মঞ্জুর সাথে নির্বাচন বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। বিগত দিনে তিনি জেলাবাসীর সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নমুখী কাজ করেছি, এছাড়া জেলাবাসীকে সাথে নিয়ে বিগত দিনে যেভাবে জেলার উন্নয়ন করেছি এ নিবার্চনে বিজয়ী হলে সকলের অংশ গ্রহণে জেলার সার্বিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখবো। জেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচনমুখী বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে না থাকায় নিবার্চন উৎসব মুখর হবে না বলেও তিনি জানান। বিদ্রোহী প্রার্থী সামসুল আবেদীন খোকন কে  উদ্দেশ্য করে বলেন, খোকন সাহেব দলীয় শৃঙ্খালা ভঙ্গ করেছেন। ওনার উচিৎ হয়নি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে এসে নিবার্চনে প্রার্থী হওয়া। খোকন সাহেবের দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের ব্যাপারে আমি কেন্দ্রীয় কমিটিতে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছি । নির্বাচনের পর খোকন সাহেবের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ করবো। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সামসুল আবেদীন খোকনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি চেয়ারম্যান পদে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। আপনাকে নিয়ে ভোটারদের  কেউ কেউ  মন্তব্য করেছেন আপনি এলাকায় থাকেন না? এমন প্রশ্নের জবাবে খোকন বলেন, নিবার্চনে বিজয়ী হলে এলকায় কেউই থাকে না কারণ এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে হলে আমাকে তো শুধু এলাকায় বসে থাকলে হবে না ঢাকাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রালয়েও যেতে হবে। তাছাড়া আলমডাঙ্গায় আমার বাড়ী নিবার্চনে দাড়ানোর পরথেকেই তো চুয়াডাঙ্গার জনগনের সাথে আছি এবং জয়ী হলেও থাকবো না হরেও থাকবো। আমি চুয়াডাঙ্গা উন্নয়ন চাই। স্বতন্ত্রপ্রার্থী আঙ্গুর বলেন, চুয়াডাঙ্গাবাসী নেতৃত্ব শূন্য অবস্থায় আছে, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গা জেলাকে উন্নয়নের রোল মডেল করে তুলবো। তিনি আরও বলেন, আমি একজন পরিক্ষিত নেতা কারণ এর আগে সদর উপজেলাতে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে আপনাদের সেবা করেছি। তবে, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেনের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিজেকে পরিচিত করানোর জন্যই জাতীয় পার্টির সভাপতি এ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন। তবে, সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে আগামীকাল। সদ্য বিদায়ী জেলা পরিষদ প্রশাসক মনজু, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা খোকন নাকি আঙ্গুর? কে হচ্ছেন জেলা পরিষদের নতুন অভিভাবক?

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।