চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১ জুন ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংসার করা হলো না অন্তরার!

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুন ১, ২০২১ ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রুদ্র রাসেল:
বিবাহের ৯ দিনের মাথায় নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে অন্তরা খাতুন (১৯) নামের এক যুবতীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার নূরনগর কলোনীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যরা নিজ ঘর থেকে অন্তরাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। গতকাল বেলা সোয়া ১১টার দিকে হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত অন্তরা নূরনগর কলোনীপাড়ার কলম আলীর ছোট মেয়ে ও একই এলাকার শাহ আলমের নববিবাহিতা স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস পূর্বে অন্তরার সঙ্গে প্রতিবেশী শাহ জাহান আশার ছেলে শাহ আলমের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় পরিবারের সদস্যরা এতে বাধ সাধে। কিন্তু গত ২২ মে অন্তরা ও শাহ আলম বিবাহের জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। ওইদিনই তারা ফিরেও আসে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে অন্তরা ও শাহ আলম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিবাহের পরে শ্বশুর বাড়িতে অন্তরার ঠাঁই না হলেও শাহ আলম নিয়মিত শ্বশুর বাড়িতে যাওয়া-আসা করতো। দুজনের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় অন্তরা তাঁর নিজ বাড়িতেই ছিল। অন্তরা তার শ্বশুর-শাশুড়ীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তারা কেউ অন্তরার সঙ্গে ভালভাবে কথা বলেননি। উল্টো তাকে কটু কথা শুনিয়েছেন নিয়মিত। এরই মধ্যে গতকাল বেলা পৌনে ১১টার দিকে নিজ ঘরের গলায় ফাঁস দেয় অন্তরা। অন্তরার বড় বোনের মেয়ে খালাকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলতে দেখে চিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘরে ঢুকে অন্তরাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস অন্তরাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। ভর্তির ১০ মিনিটের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্তরার মৃত্যু হয়।
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, পরিবারের সদস্যরা গুরুতর অবস্থায় অন্তরাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিলো। পরিবারের সদস্যরা জানান রোগীটি গলায় ফাঁস দিয়েছিলো। জরুরি বিভাগ থেকে রোগীকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভার্তি করা হয়। ওয়ার্ডে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
গতকাল দুপুরের পর নিহত অন্তরা খাতুনের মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু কনসালটেন্ট ডা. মাহাবুবুর রহমান মিলনকে প্রধান করে তিন সদস্যের মেডিকেল টিম ময়নাতদন্তটি সম্পন্ন করেন। মেডিকেল বোর্ডের অন্য দুজন সদস্য ছিলেন সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এএসএম ফাতেহ আকরাম ও মেডিকেল অফিসার ডা. সোহানা আহমেদ।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়ায় চিকিৎসক বাদীতে সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। গতকালই ময়নানদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। জানা গেছে মাত্র ১০ দিন পূর্বে মেয়েটির বিবাহ হয়েছিল তাই মৃত্যুর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ হয়নি। পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, গতকাল রাতেই জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে নিহত অন্তরা খাতুনের দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।