সংবিধান পরিবর্তনের লক্ষ্যে তুরস্কে ঐতিহাসিক গণভোট

331

বিশ্ব ডেস্ক: সংবিধান ও রাজনৈতিক পদ্ধতির পরিবর্তনের লক্ষ্যে তুরস্কের আয়োজিত গণভোটে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল রোববারের এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে সংসদীয় গণতন্ত্র থেকে দেশটি প্রেসিডেন্ট শাসিত গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত হবে। অগাধ নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী হবেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। এই পরিবর্তনের ফলে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়িপ এরদোয়ান প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী হবেন এবং তাকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশটির ক্ষমতায় দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা। দেশজুড়ে ৫ কোটি ৫০ লাখ ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৪০টি ভোট কেন্দ্রে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। দেশটির পূর্বাঞ্চলে স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়, দেশের বাদবাকি অংশে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। উভয় জায়গায় স্থানীয় সময় গতকাল বিকাল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়। দেশটির প্রবাসী নাগরিকদের ভোট ইতোমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর দিয়ারবাকিরে ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসা হাসান সেলিক (২৯) বলেন, এক ব্যক্তির শাসন শুরু হবে, তাই আমি ‘না’ বলে এসেছি। শক্তিশালী একটি পার্লামেন্টের জন্য আমি ‘না’ বলেছি। এই গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশটির মানুষ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এরদোয়ান ও তার সমর্থকরা বলছে, চলতি সংবিধান আরও উন্নত করার জন্য এই পরিবর্তন জরুরি। অপরদিকে বিরোধীরা বলছে, এই পদক্ষেপ দেশকে স্বৈরতন্ত্রের দিকে নিয়ে যাবে। ভোটের আগের দিন গত শনিবার রাতে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ক্ষমতাসীন একে পার্টির জেলা পর্যায়ের এক নেতার গাড়িতে হামলা চালিয়ে কুর্দি বিদ্রোহীরা তার এক দেহরক্ষীকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। এই হামলায় অপর এক রক্ষী আহত হয়েছেন। এছাড়া ভোটের আগে দেশটির আর কোথাও কোনো সহিংসতা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়নি।