চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২৩ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংবাদ সম্মেলনে পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী : জনগণের সাহসেই পদ্মা সেতু

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুন ২৩, ২০২২ ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সব ষড়যন্ত্র-প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে। মানুষের শক্তিতে তিনি সব সময় বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়াটা আমি পেয়েছিলাম। তারা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই পদ্মা সেতু মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আর এর মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশিদের ওপর পরমুখাপেক্ষিতা ও নির্ভরশীলতার অচলায়তন ভাঙতে পেরেছি। নির্মাণকাজের গুণগত মানেও কোনো আপস করা হয়নি। পুরো নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে। বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণে তৈরি পদ্মা সেতু আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন হবে ইনশাআল্লাহ। দেখিয়ে দিয়েছি যে আমরাও পারি। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অহংকার ও গর্ব। এই সেতু ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্ক গড়ে উঠবে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুৎেকন্দ্র নির্মাণে জায়গা খোঁজা হচ্ছে।’ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়ার পর শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তা বাস্তবায়নের কঠিন যাত্রায় সঙ্গে থাকায় দেশের মানুষের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
গতকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। পদ্মা সেতু উদ্বোধন, বন্যা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। লিখিত বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। করোনা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হওয়ার পর সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সংবাদ সম্মেলন। করোনাকালে সরকারপ্রধানের সংবাদ সম্মেলনগুলোতে ভাচুর্য়ালি যুক্ত ছিলেন সাংবাদিকেরা। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের চুক্তি করলেও পরে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলে, যা নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন চলে। কিন্তু সেই অভিযোগ তারা প্রমাণ করতে পারেনি। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে নিজস্ব অর্থায়নে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকায় নির্মিত এই সেতুতে এখন যান চলাচাল শুরুর অপেক্ষায় পুরো দেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১১ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাইকা ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) সঙ্গে ঋণচুক্তি সই করা হয়। এরপর শুরু হয় ষড়যন্ত্র। সেই ষড়যন্ত্রের পেছনে কে বা কারা ছিল, তা বহুবার বলেছি।’ ব্যক্তিস্বার্থে বিশেষ এক ব্যক্তির উদ্যোগে ষড়যন্ত্র শুরু হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পরে আরো কয়েক জন যুক্ত হয়েছে। দুর্নাম রটানো হয়, দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়। ব্যাংকের একটি এমডি পদ একজনের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ হয় কী করে! ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থের জন্য দেশের মানুষের কেউ ক্ষতি করতে পারে; এটা সত্যিই কল্পনার বাইরে ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ষড়যন্ত্রকারীরা ছাড়াও বিশ্বব্যাংকের অভ্যন্তরে একটি গ্রুপ ছিল, যারা অন্যাঘ্যভাবে কিছু কিছু বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করতে চেয়েছিল। বিশ্বব্যাংক একটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য করার লক্ষ্যে পরোক্ষ চাপ দিতে থাকে। রাজি হইনি। এরপর থেকেই তারা পদ্মা সেতুর কার্যক্রমে বাধা দিতে থাকে। দুদক তদন্ত করে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ পায়নি। পরে কানাডার আদালতেও প্রমাণিত হয়, পদ্মা সেতুতে কোনো দুর্নীতি হয়নি।’ আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, উৎসব সবাই করবেন, কিন্তু প্রত্যেকে একটু ধৈর্য্য ধারণ করবেন এবং নিয়ম মানবেন এবং কোথাও কোনো দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখবেন। তিনি বলেন, ‘যার যার জায়গা থেকে যেমনভাবে হোক এই উৎসবে সবাই শামিল হবেন। এটা আমাদের মর্যাদার বিষয় যে আমরাও পারি। এটাই আমরা প্রমাণ করেছি, কাজেই সেভাবেই সবাই উৎসবে শামিল হবেন।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।