সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় ছাত্রীদের উপর চালানো হচ্ছে মানসিক নির্যাতন

418

ফলোআপ: জীবননগরের মাধবপুর মাদরাসার শিক্ষিকা রানীর বিরূদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবননগর উপজেলার মাধবপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার কৃষি শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষিকা রানীর বিরূদ্ধে ছাত্রীদের দিয়ে সন্তানের প্রসাব পায়খানা পরিষ্কার করানোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর শুরু হয়েছে ছাত্রীদের উপর মানসিক নির্যাতন। গত মঙ্গলবার দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকায় এ ঘটনায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
মাদরাসা সুত্রে জানা যায়, শিক্ষিকা রানীর বিরূদ্ধে তার সন্তানের প্রসাব-পায়খানা ছাত্রীদের দিয়ে জোরপূর্বক পরিষ্কার করানো না করলে শারিরীক নির্যাতন বা অকথ্য অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, ঠিক মতো ক্লাসে উপস্থিত না হওয়া এসব অভিযোগ পত্রিকায় প্রকাশের পর পরই সে মাদরাসার ছাত্রীদের উপর শুরু করেছে মানসিক নির্যাতন। ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা এই শিক্ষিকার বিরূদ্ধে অভিযোগ করায় সে ছাত্রীদের বিভিন্ন রকমভাবে নির্যাতন এবং স্কুল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি ধামকি প্রদান করছে।
বিষয়টির বর্ণনা দিয়ে মাদরাসার একাধিক ছাত্রীরা সময়ের সমীকরণকে জানান যে, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই ম্যাডাম আমাদের উপর আরো বেশি নির্যাতন করছে। আমাদেরকে মাদরাসা থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিভাবকদের সাথে কথা বললে তারা জানান যে, আমাদের সন্তানদের উপরে যে মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে তা কোন শিক্ষিকার জন্য শোভা পায়না। আমরা এই শিক্ষিকাকে ধিক্কার জানাই। সেই সাথে এই শিক্ষিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এই বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা রানীর সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে অভিযুক্ত শিক্ষিকা রানী স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে পুজি করে সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার ব্যার্থ চেষ্টা করেন। এই বিষয়ে জীবননগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বললে তিনি জানান যে, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নয়। তবে পত্রিকায় ঐ শিক্ষিকার বিরূদ্ধে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা তদন্ত পূর্বক তার বিরূদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করব। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজার সাথে কথা বললে তিনি সময়ের সমীকরণকে জানান যে, বিষয়টি সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত কারো কাছ থেকে সুনিদ্রিষ্ট কোন অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা ঐ শিক্ষিকার বিরূদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেব। তিনি আরো বলেন যে, শিক্ষার্থীদের সাথে এমন ব্যবহার করার কোন সুযোগ নেয়।