চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংকটে রোহিঙ্গারা

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

16102460_303

সমীকরণ ডেস্ক: রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বরাবরই সরব আসিয়ান জোটের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র মালয়েশিয়া। এ নিয়ে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ফোরামে  রীতিমত দেনদরবার করছে দেশটির নেতৃত্ব। অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ইস্যুতে মতভেদ থাকলেও কুয়ালামপুরের রাজনৈতিক দলগুলো রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মিতার প্রশ্নে অভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইনে বর্বর নির্যাতনের শিকার প্রায় সোয়া লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান দেশটির আশ্রয়ে রয়েছেন। যার মধ্যে প্রায় অর্ধলক্ষ শারর্ণার্থীর মর্যাদা পেয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও মালয়েশিয়ার নেতৃত্বের সমালোচনা পিছু ছাড়ছে না। জাতিসংঘ মনে করে, নিজ দেশ এবং ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ হওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবাধিকার সংবেদনশীল রাষ্ট্র হিসেবে মালয়েশিয়ার আরো অনেক কিছু করার আছে। প্রাণে বাঁচার তাগিদে দেশটিতে আশ্রয় নেয়ার রোহিঙ্গারা কী অবস্থায় রয়েছেন তা নিয়েও বিচার-বিশ্লেষণ করছে জাতিসংঘ। তাদের বিবেচনায়, মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা হয়তো জীবন ঝুঁকিতে নেই, যেমনটা তারা মিয়ানমারে ছিলেন। কিন্তু সেখানেও তারা খুব ভালো অবস্থায় নেই। নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে দিনযাপন করছেন রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যত ওই নারী, পুরুষ ও শিশুরা। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মালয়েশিয়া এবং জাতিসংঘের অবস্থানের বিষয়ে একটি পর্যালোচনামূলক রিপোর্ট করেছে কুয়ালালামপুর থেকে প্রকাশিত দ্য স্টার অনলাইন। রোহিঙ্গাদের প্রতি সাড়া (রেসপন্ডিং টু রোহিঙ্গাস) শিরোনামে ২৫শে ডিসেম্বর প্রকাশিত ওই রিপোর্টের সূচনায় বলা হয়, শুধু রোহিঙ্গা ইস্যুতে নেতৃত্ব দেয়ার পর্যায়েই নয়, এ অঞ্চলের পুরো শরণার্থী সমস্যার সমাধানেও মালয়েশিয়া নেতৃত্ব দিতে পারে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, গত সোমবার মিয়ানমারের ইয়াংগুনে দেশটির স্টেট কাউন্সেলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সূচির আমন্ত্রণে অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশন্স (আসিয়ান) জোটভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের যে বৈঠক হয়েছে তাতে রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুলমানদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধিতে মালয়েশিয়ার তরফে নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। মিনিস্টার্স রিট্রিটে অংশ নেয়া মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিফা আমান মিয়ানমারসহ অন্য প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, ‘রাখাইনে যেভাবে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে এবং যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে লোকজনকে ভিটামাটি ছাড়তে (বাস্তুচ্যুত) হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মন্ত্রী পর্যায়ের ওই বৈঠকে রাখাইনের বিরোধপূর্ণ এলাকায় জরুর ত্রাণসহায়তা প্রেরণের বিষয়ে মিয়ানমার রাজি হয়। সেখানে দেশটির সেনাদের অগ্নিসংযোগ, হত্যা-ধর্ষণের অভিযোগের মধ্যে জাতিসংঘ, বিশ্ব খাদ্য সংস্থাসহ বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের প্রবেশাধিকার কয়েক সপ্তাহ ধরে নিষিদ্ধ রয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশটির অভ্যন্তরে যারা বাস্তুচ্যুত (ডিসপ্লেইসড)সহ আক্রান্ত রোহিঙ্গা এলাকায় জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদানে যে আন্তর্জাতিক আহ্বান ছিল তাতে যুক্ত ছিলেন মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিফা। কিন্তু মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে দেশটির অবস্থান ‘অস্পষ্ট’ ও ‘নিঃশব্দ’ ছিল বলে রিপোর্টে সমালোচনা করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়, মজার ব্যাপার হলো, ক্রমেই মালয়েশিয়ার মানুষজন দেশটিতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা ও অন্যান্য জাতির শরণার্থীদের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে উদ্যোগী হয়ে উঠছে। কারণ, এ মাসের শুরুর দিকে দেশটির সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইস্যুতে একটি সাহসিকতাপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।