শ্রী নিমাই পদ সিংহ রায়ের মৃত্যুবার্ষিকী পালন

55

চুয়াডাঙ্গায় ব্রাক্ষণ ভোজ, গীতা পাঠ ও কীর্তন পরিবেশনের মধ্যদিয়ে
বিশেষ রিপোর্ট:
চুয়াডাঙ্গার পরিচিত মুখ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিবিএ’র সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ শ্রমিক নেতা শ্রী নিমাই পদ সিংহ রায় এর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের মালোপাড়াস্থ নিজ বাড়ীতেই স্বর্গীয় নিমাই বাবুর আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। এছাড়া দুপুরে ব্রাক্ষণ ভোজ, বিকেল থেকে আত্মার শান্তি কামনায় গীতা পাঠ ও কীর্তন পরিবেশনের মধ্যদিয়ে মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়। স্বর্গীয় নিমাই বাবুর বড় ছেলে জয়ন্ত কুমার সিংহ রায়সহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা আত্মার শান্তি কামনায় সবার নিকট দোয়া/আশির্বাদ কামনা করেন। নিমাই পদ সিংহ রায় ১৯৪৪ সালে ৫ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গার আদি শহর সুমিরদিয়ার সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন স্বর্গীয় জগদিন্দ্র প্রসাদ সিংহ রায়। পরে নিমাই বাবু চুয়াডাঙ্গার শহরের মালোপাড়ায় বসবাস শুরু করেন। তিনি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে হিসাব করণিক পদে চাকরি করতেন। তৎকালিন চাকরিকালীন সময় থেকেই শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে তিনি শ্রমিক আন্দোলনে যোগ দেন। পরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬১ সালে চাকরিতে যোগ দিয়ে ২০০২ সালে অবসরগ্রহনের আগপর্যন্ত তিনি শ্রমিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। নিমাই পদ সিংহ রায় আন্তাজার্তিক লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও)’র বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে অংশগ্রহণসহ বিশ্বের বেশকয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবনগর সরকারেও তিনি চাকরি করেছেন। ওই সময় তিনি মুক্তি বাহিনীর সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তবে মুজিবনগর সরকারের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ মনসুর আলীর সাক্ষরিত চিঠি থাকলেও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর মেলেনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি সোমবার রাতে ভারতের কলকাতায় অবস্থিত নেতাজী সুভাস চন্দ্র বসু ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি পরলোক গমন করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭২ বছর। তিনি হৃদরোগ ও ফুঁসফুসের সংক্রমণজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় আড়াই মাস যাবৎ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।