শ্রী নিমাই পদ সিংহ রায়ের পরলোক গমন বিভিন্ন মহলের শোক : মরদেহ বাংলাদেশে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু

250

16117648_1903538573215409_555324941_nনিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার পরিচিত মুখ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিবিএ’র সাবেক সভাপতি ও প্রবীন শ্রমিক নেতা শ্রী নিমাই পদ সিংহ রায় পরলোক গমন করেছেন। গতকাল সোমবার রাতে কোলকাতার নেতাজী সুভাস চন্দ্র বসু ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭২ বছর। জানা যায়, হৃদরোগ ও ফুঁসফুসের সংক্রমনজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে নিমাই পদ  সিংহ রায় প্রায় আড়াই মাস যাবৎ কোলকাতার ওই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গতকাল রাত ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গার মালোপাড়ায় তার বড় ছেলে জয়ন্ত কুমার সিংহ রায়ের কাছে তার বাবার মৃত্যু সংবাদ পৌছায়। গতরাত থেকেই মরদেহ বাংলাদেশে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার শ্রী নিমাই পদ সিংহ রায়ের লাশ চুয়াডাঙ্গায় পৌঁছানো সাপেক্ষে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।
শ্রী নিমাই পদ সিংহ রায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে হিসাব করণিক পদে চাকুরী করতেন। চাকুরীকালীন সময় থেকেই তিনি শ্রমিক আন্দোলনে যোগ দেন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬১ সালে চাকরিতে যোগ দিয়ে ২০০২ সালে অবসর গ্রহনের আগ পর্যন্ত তিনি শ্রমিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। নিমাই পদ সিংহ রায় শ্রমিক আন্দোলনে যুক্ত হয়ে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে অংশগ্রহণসহ বেশকয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবনগর সরকারেও তিনি চাকরি করেছেন। ওই সময় মুক্তি বাহিনীকে বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। মুজিবনগর সরকারের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ মনসুর আলীর স্বাক্ষরিত চিঠির বলে ওই সময় মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী হিসেবে চাকুরী করলেও এবং ওই চিঠি একাধিকবার মন্ত্রনালয়ে উপস্থাপন করার পরও মেলেনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি।
১৯৪৪ সালে ০৫ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গার আদি শহর সুমিরদিয়ার সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নিমাই পদ সিংহ রায়। তার বাবা স্বর্গীয় জগদিন্দ্র প্রসাদ সিংহ রায়। পরে নিমাই বাবু চুয়াডাঙ্গার শহরের মালোপাড়ায় বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগ ও ফুঁসফুসের সংক্রমনজনিত রোগে ভূগছিলেন। প্রায় আড়াই মাস আগে তাকে কোলকাতা পার্ক স্ট্রিটের নেতাজী সুভাস চন্দ্র বসু ক্যান্সার হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গতকাল তার শয্যাপাশে ছিলেন স্ত্রী ও ছোট ছেলে হেমন্ত কুমার সিংহ রায়। রাত ১১টার দিকে কোলকাতার হাসপাতাল থেকে ছোট ছেলে হেমন্ত কুমার মোবাইলফোনে চুয়াডাঙ্গায় বড় ছেলে জয়ন্ত কুমার সিংহ রায়কে বাবার মৃত্যুর খবর দেয়। এ খবরে শোকে কাতর হয়ে পড়েন তার ছেলেসহ আত্মীয়-স্বজন।  মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
এদিকে, মৃত্যু সংবাদ পেয়ে শোকার্ত পরিবারের পাশে গিয়ে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন দৈনিক সময়ের সমীকরণ এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, ৭১ টেলিভিশনের রিপোর্টার এম এ মামুন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পলাশ কুমার সাহা, সুমন পারভেজসহ স্বর্গীয় নিমাই বাবুর সহকর্মি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও শুভাকাঙ্খীরা। বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা ছেলে জয়ন্ত কুমার সিংহ রায়ের বন্ধুবর্গ তার পাশে গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন।
শ্রমিক নেতা শ্রী নিমাই পদ সিংহ রায়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের সাংসদ জাতীয় সংসদের হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খুস্তার জামিল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, মজিবুল হক মালিক মজু ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল নেতা শরীফুজ্জামান শরীফ।