শ্রীলংকায় চিনির মজুদ গড়ছেন ব্যবসায়ীরা!

388

e56e568

সমীকরণ ডেস্ক: বিশ্ববাজারে চিনির দাম বেশি- দোহাই দিয়ে কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা দাম বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছিলেন চিনি আমদানিকারকরা। অভিযোগ উঠেছে, সেই আবদারে সাড়া না দেয়ায় সরকারকে বিব্রত করতে ভিন্নপথ বেছে নিয়েছেন তারা। ইতোমধ্যে চিনি আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে। অন্যদিকে আমদানিকারকরা শ্রীলংকায় চিনির মজুদ গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের বাজারের চেয়ে বিশ্ববাজারে চিনির দাম বেশি দাবি করছেন আমদানিকারকরা। এরই মধ্যে তারা চিনি আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলা কমিয়ে দিয়েছেন। এবার যে পরিমাণ আমদানি হয়েছে তা গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। ফলে দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প চিন্তা করছে সরকার। অন্যদিকে আমদানিকারকরা আগের এলসির চিনি বিভিন্ন অজুহাতে শ্রীলংকার বন্দরগুলোতে মজুদ করছে বলে অভিযোগ এসেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় প্রাথমিক তদন্তে এর সত্যতাও মিলেছে বলছে দায়িত্বশীল সূত্র। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন (এনডিসি) এ বিষয়ে বলেন, শ্রীলংকায় একটা কিছু ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত বলা যাবে না। বিষয়টির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, চিনি একটি আমদানিনির্ভর পণ্য। তারা ইচ্ছা করলেই পাঁচ-দশদিনে বাজারে প্রভাব ফেলতে পারেন না। এজন্য সময় লাগে। আরও বড় অসুবিধা হলো এক সময়ের উল্লেখযোগ্য চিনি রপ্তানিকারক দেশ ভারত এখন নিজেই বড় ধরনের আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার এখন একটি ‘গেম প্লেস’-এ পরিণত হয়েছে। তাদের মতো ছোট দেশের মোকাবেলা করা কঠিন হলেও তারা এ নিয়ে চিন্তা করছেন। হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, সামনে নতুন মৌসুম। আশা করেন বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে বিশ্ববাজার কবে স্বাভাবিক হবে তা বলা কঠিন। এক বছর আগেও যে চিনি বিশ্ববাজারে ৩২৯ ডলারে বিক্রি হয়েছে, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৫৯০ ডলার পর্যন্ত। এতে দাম বাড়াটাই স্বাভাবিক। তবে তা যেন জনগণের ক্রয়ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ না করে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় সচেতন আছে। তিনি জানান, বিশ্ববাজারে চিনির দর দেশের বাজারের তুলনায় বেশি- জানিয়ে এরই মধ্যে আমদানিকারকরা এলসি খোলা কমিয়ে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার কথাও ভাবছে সরকার। অচিরেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দেশের বৃহত্তম চিনি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ সাহা চিনির বাজার সম্পর্কে বলেন, বাজার এখন খুবই ঝুঁকির মধ্যে আছে। বিশ্ববাজারে প্রতি টন চিনির দাম কখনো ৫৯০ ডলার থেকে ৫২০ ডলারে নেমে যাচ্ছে। আবার হয়তো পরের দিনই তা ৫৫০ ডলারে গিয়ে পৌঁছাচ্ছে। এতে করে ব্যবসায় ঝুঁকি বাড়ছে। এই ঝুঁকির কারণেই হয়তো এলসির পরিমাণ কমছে। তবে শ্রীলংকায় চিনির মজুদ গড়ার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় দ্রুত দেশের বাজারের চিনির দর কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন বিশ্বজিৎ সাহা।