শ্বশুরের অপমানের প্রতিশোধ নিতে শ্যালককে হত্যা!

43

মহেশপুরে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র রাতুল হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশ
ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহের মহেশপুরে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র এহতেশাম মাহমুদ রাতুল (১৮) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। রাতুল ঝিনাইদহর মহেশপুর উপজেলার বাজিপোতা গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে। শ্বশুর মহিউদ্দিনের করা অপমানের প্রতিশোধ হিসেবে শ্যালককে খুন করে ভগ্নিপতি কোটচাঁদপুরের কাশিপুর গ্রামের শিশির আহমেদ। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৌশলী তদন্তে এই ক্লুলেস খুনের পেছনের কারণ শনাক্ত করাসহ হন্তাকারী শিশিরকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আগে ভুক্তভোগীকে গাঁজা ও কোমলপানীয়ের সাথে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে। পরে নাকে মুখে স্কচটেপ মুড়িয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে।
এ ব্যাপারে ডিবির সাফল্য তুলে ধরে গতকাল শনিবার জেলা পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিং করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জাহাঙ্গীর আলম ব্রিফিংয়ের সময় এই হত্যাকাণ্ড, মামলা, অভিযান ও তদন্ত সংক্রান্ত নানা তথ্য সাংবাদিকদের সরবরাহ করেন।
তথ্য মিলেছে, গত ১২ জুলাই চৌগাছা উপজেলার লস্করপুর শ্মশান মাঠে পাটখেত থেকে মুখে স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় স্কুলছাত্র এহতেশাম মাহমুদ রাতুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে অজ্ঞাত লাশ হিসেবে উদ্ধার হলেও পরবর্তীতে স্বজনরা শনাক্ত করেন। নিহত রাতুল মহেশপুরের সামবাজার এমপিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র। এক সপ্তাহ তদন্তের পর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত রাতুলের আপন ভগ্নিপতি শিশির আহমেদকে আটক করেছে ডিবি। একই সাথে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, পরিহিত বস্ত্র ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
প্রেস বিফ্রিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিএসবি জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের সিএমপি বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি শিশির আহমেদকে আটক করা হয়। তাঁর স্বীকারোক্তিতেই ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে যশোরের চৌগাছা উপজেলার লস্করপুর শ্মশান মাঠে ঘটনাস্থলের অদূরের একটি পাটখেত থেকে রাতুলের পরিহিত বস্ত্র ও হত্যার কাজে ব্যবহৃত স্কচটেপ ও হ্যান্ড গ্লাভস উদ্ধার করা হয়। আর ওই দিনই ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার কাশিপুর গ্রামে আটক আসামির বসতবাড়ি থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
ডিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশির আহমেদ জানিয়েছেন, তাঁর শ্বশুর মহিউদ্দিন এক দিন বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাঁকে অপমান-অপদস্ত করেন। এতে শিশির প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন। সেই থেকে শ্বশুরের একমাত্র ছেলে রাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকেন। পরিকল্পনা অনুয়ায়ী নিহতের বোনের (আসামির স্ত্রী) মোবাইল ফোন দিয়ে রাতুলকে ডেকে নিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। এখানে এলে কৌশলে তাকে গাঁজা সেবন করান। এছাড়া কোমলপানীয়ের সাথে চেতনানাশক (ঘুমের ওষুধ) মিশিয়ে পান করান। একপর্যায়ে রাতুল অচেতন হয়ে পড়লে তার নাক মুখে স্কচটেপ মুড়িয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। রাতুলের মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থলে লাশ গুম করার জন্য ফেলে রাখে ও নিহতের গায়ের কাপড় খুলে ঘটনাস্থলের পাশে আরেকটি পাটখেতে ফেলে রাখেন। রাতুলের মোবাইলটি সিম খুলে আসামির বসতঘরে ইটের নিচে পুঁতে রাখেন।
ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) বেলাল হোসাইন, জেলা গোয়েন্দা ডিবির অফিসার ইনচার্জ রুপন কুমার সরকার, তদন্ত কর্মকর্তা অভিযানিক এসআই মফিজুল ইসলামসহ ওই টিমের সদস্যরা।