চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১৮ আগস্ট ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শৈলকুপায় স্কুলশিক্ষক আলাউদ্দীন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা

একই পরিবারের তিনজনের ফাঁসির আদেশ
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
আগস্ট ১৮, ২০২২ ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঝিনাইদহ অফিস: শৈলকুপায় স্কুলশিক্ষক খান মোহাম্মদ আলাউদ্দীন হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। এছাড়া একজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ঝিনাইদহের বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ মো. নাজিমুদ্দৌলা এই রায় প্রদান করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শৈলকুপা উপজেলার শিতালী গ্রামের গোলাম কুদ্দুস খানের ছেলে রান্নু খান, শামছুর রহমান খানের ছেলে জামাল খান ও তার ভাই কানু খান। আসামিদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি একই গ্রামের ওমেদ আলী খানের ছেলে শামছুর রহমানকে আমৃত্যু দণ্ডের পাশাপাশি ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আসামিরা সবাই একই পরিবারের সদস্য এবং নিহতর ভাই, ভাজিতা ও চাচা বলে জানা গেছে।

আদালতের দেওয়া রায় সূত্রে জানা গেছে, সুপারি গাছের মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের সূত্র ধরে ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আসামিরা এজাহারকারী মোছা. শিউলী খাতুনের ভাসুরের ছেলে রিপন আনসারীর বাড়িতে ঢুকে মারধর করে। এসময় স্কুলশিক্ষক খান মোহাম্মদ আলাউদ্দীন ভাতিজাকে ঠেকাতে গিয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন নিহত’র স্ত্রী মোছা. শিউলী খাতুন বাদী হয়ে ৭ জন আসামির নাম উল্লেখসহ আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে শৈলকুপা থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন। বিজ্ঞ আদালত ১৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গতকাল বুধবার উল্লেখিত রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে পিপি অ্যাড. ইসমাইল হোসেন বাদশা, এজাহারকারীর পক্ষে অ্যাড. তারিকুল আলম ও আসামির পক্ষে অ্যাড. শামসুজ্জামান তুহিন মামলাটি পরিচালনা করেন।

এ ব্যাপারে নিহত খান মোহাম্মদ আলাউদ্দীনের ছেলে শৈলকুপার হাটফাজিলপুর হাইস্কুলের শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম খান জানান, ‘চোখের সামনে আমার পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই রায়ে আমি পুরোপুরি সন্তষ্ট হতে পারিনি। তিনজন আসামিকে বিজ্ঞ আদালত খালাস দিয়েছেন। তারা সরাসরি হত্যা মিশনে অংশ নিয়েছিল। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমার মা উচ্চআদালতে আপিল করবেন।’ তবে মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইসমাইল হোসেন বাদশা বলেন, ‘আদালত যে রায় দিয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি। দ্রুত এই রায় কার্যকর যেন হয় সেই আশা করছি।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।