শেষ জামানা প্রসঙ্গে

1304

ধর্ম ডেস্ক: সহিহ বোখারি শরিফের এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ এমন একটি যুগে উপনীত হবে সে যে সম্পদ অর্জন করেছে তা কি হালাল নাকি হারাম তা পরোয়াও করবে না।’ হাদিসটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সাযুজ্যপূর্ণ। হাদিসে বর্ণিত এমন একটি যুগ বলতে মূলত শেষ জামানাকে বোঝানো হয়েছে। বর্তমান সমাজে সম্পদ উপার্জনের জন্য যা হচ্ছে তা সম্পর্কে পাঠকমাত্রই অবগত। বর্ণিত হাদিসের ব্যাখ্যার সঙ্গে আরেকটি হাদিসে ব্যাখ্যা পুরোপুরি মিলে যায়। ওই হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আখেরি জামানায় এক সময় এমন হবে যে, মুসলমানদের মাঝে বিরাট হত্যাযজ্ঞের ফেতনা চলবে তখন যে হত্যাকারী সে জানবে না কেন সে হত্যা করছে এবং যাকে হত্যা করা হবে সেও জানবে না কেন তাকে হত্যা করা হচ্ছে।’ বর্তমান সমাজের দিকে তাকালে এ বাস্তবতা মেলে। আসলে পৃথিবীতে জবর-দখল, হত্যাযজ্ঞ ও অনাচারের যে রাজত্ব চলছে এ সম্পর্কে মহানবী (সা.) জীবদ্দশাতেই হুঁশিয়ারি প্রদান করে গেছেন। কিয়ামত পর্যন্ত মানুষ যেন ন্যায়ের পথে থেকে চলতে পারে সেজন্য দিকনির্দেশনাও দিয়ে গেছেন। এ সম্পর্কে এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন আমার উম্মত ১০টি কাজ করবে তখন তাদের ওপর বিপদ নেমে আসবে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো হে রাসুল, কী সেই দশটি কাজ? যা করলে বিপদ হবে? তিনি বললেন, ১. যখন রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করা হবে, ২. যখন আমানত হিসেবে রক্ষিত সম্পদকে লুটের মাল হিসেবে গ্রহণ করা হবে (অর্থাৎ আত্মসাৎ করা হবে), ৩. জাকাতকে জরিমানার মতো মনে করা হবে, ৪. স্বামী যখন স্ত্রীর আনুগত্য করবে এবং মায়ের অবাধ্য হবে, ৫. (মানুষ) বন্ধুর প্রতি সদাচারী ও পিতার সঙ্গে দুর্ব্যবহারকারী হবে, ৬. মসজিদে হৈ চৈ হবে, ৭. জনগণের নেতা হবে সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট চরিত্রের অধিকারী, ৮. মানুষকে তার ক্ষতির আশঙ্কায় সম্মান করা হবে, ৯. গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের হিড়িক পড়ে যাবে ও ১০. উম্মতের পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদেরকে অভিশাপ দেবে। তখন আগুনের বাতাস আসবে, মাটির ধস ও দেহের বিকৃতি ঘটবে’ -সুনানে তিরমিজি।