শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা নবীজির সুন্নত

12

ধর্ম প্রতিবেদন:
মানুষকে আল্লাহ তাআলা যেসব অমূল্য নেয়ামত দিয়েছেন, তার অন্যতম হলো ভাষা। ভাষার মাধ্যমে মানুষ নিজের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ করতে পারে। সাহিত্য সৃষ্টি, মানব-সভ্যতার বিকাশ, ও সব বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের জন্য ভাষাই প্রধান অবলম্বন। পৃথিবীর সব জ্ঞান-বিজ্ঞান, সভ্যতা-সংস্কৃতি, ধর্ম-ইতিহাস ধারণ করে আছে ভাষা। তাই ভাষার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। পবিত্র কোরআনে কারিমে আল্লাহ আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং ভাব প্রকাশের জন্য তাদের ভাষা দিয়েছেন।’ (সুরা আর রহমান, আয়াত : ২-৩)
কোরআনসহ পৃথিবীর সব ধর্মগ্রন্থ বিশুদ্ধ ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কাছে রাসুল বা বার্তা বাহক পাঠিয়েছেন। তারা সর্বোৎকৃষ্ট ভাষা নিয়ে আর্বিভূত হয়েছেন। বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলেছেন ও আল্লাহর বিধান বা দ্বীন প্রচার করেছেন। পৃথিবীর এমন কোনো জনপদ বা জনগোষ্ঠী নেই যেখানে আল্লাহ তাআলা তার বাণী বাহক এবং আসমানি কিতাব বা সহিফা অবতীর্ণ করেননি। তবে সব বার্তা বাহক ছিলেন বিশুদ্ধভাষী। সব আসমানি কিতাব ছিল সংশ্লিষ্ট জাতির বিশুদ্ধতম ভাষায়। তাই বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলা ইসলামেরই দাবি। নবী করিম (সা.)-এর একটি দায়েমি ও শ্বাশ্বত সুন্নত। নবী করিম (সা.) সবসময় বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলতেন। কেউ অশুদ্ধ ভাষা ব্যবহার করলে তিনি তা শুধরে দিতেন। একবার এক সাহাবি রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে ‘আ-আলিজু?’ বলে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। শব্দটির অপপ্রয়োগ হওয়ায় রাসুল (সা.) তা শুদ্ধ করে দিয়ে বললেন তুমি ‘আ-আলিজু?’ এর বদলে ‘আ-আদখুলু?’ বলো।