শীর্ষে সাতক্ষীরা, তলানীতে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গার অবস্থান সন্তোষজনক

194

জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ ও পাসের হার বেড়েছে যশোর বোর্ডে
বিশেষ প্রতিবেদক:
জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার (জেএসসি) ফলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। গত বছরের তুলনায় পাসের হার বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ বেড়েছে আড়াই হাজার। গত দুবছর গণিতে ফল বিপর্যয়ের কারণে ধ্বস নেমেছিল পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে। এ বছর জেএসসিতে যশোর বোর্ডে পাসের হার ৯১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ হাজার ৭৫৫। গত বছর পাসের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ৭ হাজার ২৫৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক ফলে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, চলতি বছর দুই লাখ ৩৩ হাজার ৮২৯ শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এদের মধ্যে ছাত্র এক লাখ ১২ হাজার ১৪১ ও ছাত্রী এক লাখ ২১ হাজার ৬৮৮। এরমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৯৭৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৬৯৬ ও ছাত্রী ১ লাখ ১২ হাজার ২৮০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৭৫৫ ছাত্রছাত্রী। পাসের হার ৯১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। গত বছর ২ লাখ ৪২ হাজার ৭১১ জন শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এদের মধ্যে ছাত্র ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৭২৯ ও ছাত্রী ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৮২। এরমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫৩৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৭ হাজার ২৫৬ জন। পাসের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৬১ শতাংশ। ২০১৭ এই বোর্ড থেকে ২ লাখ ৯ হাজার ৫১৫ শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এদের মধ্যে ছাত্র ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২৬৫ ও ছাত্রী ১ লাখ ৮ হাজার ২৫০। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৭৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৪ হাজার ৬১২ জন। পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ৪২ শতাংশ।
জেএসসির ফল সম্পর্কে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র জানান, যশোর বোর্ডের সার্বিক ফলে তারা সন্তুষ্ট। এ বছর ছাত্রদের চেয়ে বেশিসংখ্যক ছাত্রী জেএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। আবার ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের ফলও ভালো। তাদের পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিও বেশি। তিনি আরও বলেন, জেএসসিতে প্রশ্ন ব্যাংকের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফল ভালো হয়েছে।
এদিকে, যশোর বোর্ডে জেলাওয়ারি ফলে শীর্ষে সাতক্ষীরা জেলা, আর তলানিতে রয়েছে কুষ্টিয়া জেলা। ২০১৯ সালের প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, প্রথম স্থানে থাকা সাতক্ষীরা জেলায় ২৫ হাজার ৬৩৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ হাজার ২২৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে খুলনা জেলায় ৩১ হাজার ৯২২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৯ হাজার ৯১৭ জন। পাসের হার ৯৩ দশমিক ৭২ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে যশোর জেলায় ৩৬ হাজার ৫৮৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৩ হাজার ৫২৯ জন। পাসের হার ৯১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। চতুর্থ স্থানে বাগেরহাট জেলায় ১৮ হাজার ৯০৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ হাজার ২৭৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। পঞ্চম স্থানে মাগুরা জেলায় ১৫ হাজার ৩৬৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩ হাজার ৯৩৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯০ দশমিক ৭০ শতাংশ। ষষ্ঠ স্থানে মেহেরপুর জেলায় ১১ হাজার ৬৪২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০ হাজার ৪৯৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯০ দশমিক ১৭ শতাংশ। সপ্তম স্থানে ঝিনাইদহ জেলায় ২৮ হাজার ৬৭৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৫ হাজার ৭৬১ জন। পাসের হার ৮৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অষ্টম স্থানে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১৭ হাজার ২৭৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫ হাজার ৩৯০ জন। পাসের হার ৮৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। নবম স্থানে নড়াইল জেলায় ১২ হাজার ২১৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১০ হাজার ৮৪৬ জন। পাসের হার ৮৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। দশম স্থানে কুষ্টিয়া জেলায় ৩৫ হাজার ৬০৪ জনের মধ্যে ৩১ হাজার ৫৯৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।