চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ১০ জানুয়ারি ২০১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শীতার্তদের পাশে দাঁড়ান

সমীকরণ প্রতিবেদন
জানুয়ারি ১০, ২০১৮ ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এখন পৌষ মাস। শীতকাল। পৌষ আর মাঘ মাস মিলেই মূলত শীত মৌসুম। কিন্তু এবার পৌষের মাঝামাঝি সময়েই দেশজুড়ে তীব্র শীত জেঁকে বসেছে। যদিও ক’দিন আগেও শীতের লেশমাত্র ছিল না। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায় অনেকেই মনে করেছিলেন এবার হয়তো তেমন শীত পড়বেই না। সবার সব ধারণা ভুল প্রমাণিত করে গত ক’দিন ধরে দেশজুড়েই শীত তার আগমনী বার্তা দিচ্ছে। গণমাধ্যমে সে সব খবর আসছে। ইতোমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ সর্বকালের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। কোনো কোনো জেলায় তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেছে এমন সংবাদও গণমাধ্যমে এসেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে শীতের প্রকোপ কমে যাবে এমন সম্ভাবনাও নেই। কিন্তু এভাবে তো জীবন চলে না। জীবন ও জীবিকার দায়েই মানুষকে ঘরের বাইরে বের হতে হয়। বিশেষ করে যারা দিনমজুর, নিম্নআয়ের মানুষ। দিনের আয় দিনে করেই যাদের পেটের খোরাক জোগাতে হয়। কবি, লেখকদের সৃষ্টিতে শীত অত্যন্ত উপভোগ্য মৌসুম। কৃষকের মুখভর্তি থাকে হাসি। ঘরে ঘরে নতুন চালে পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা সৃষ্টি হওয়ায় মৌসুমি আমেজ আর এখন উপভোগ্য নেই। এর জন্য দায়ী আমরাই। যারা নগরায়ণের নামে, উৎপাদনের নামে নির্বিচারে গাছ উজাড় করে দিচ্ছে, কল-কারখানার কালো ধোঁয়ায় খোলা আকাশ আচ্ছন্ন করে দিচ্ছে এমনকি কল-কারখানার বর্জ্য নদীর পানিতে ফেলে দেশে-বিদেশে পরিবেশের ক্ষতির কারণ ঘটাচ্ছে, এর পেছনে মূলত উন্নত দেশগুলোর ভূমিকাই দায়ী বেশি। কারণ সে সব দেশে কল-কারখানার পরিমাণ অনুন্নত দেশের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি এবং বর্জ্য অপসারণের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে নদীর পানিতেই তা মিশতে দিচ্ছে। কারখানা বর্জ্যরে বিষাক্ত প্রভাব বাতাসে মিলে আবহাওয়া পরিবর্তনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। সরকার এ ধরনের ক্ষতি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা করছে বটে তবে সাধারণ মানুষের জীবনে সংশয় দিন দিন বাড়ছেই। গৃহহারা ছিন্নমূল মানুষ কিংবা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য তীব্র শীত অনেক সময় মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে হাজির হয়। কারণ তাদের কাছে পুষ্টিকর খাবার কিংবা গরম কাপড় কোনোটাই নেই। যা আছে তা দিয়ে শীতের তীব্রতা ঠেকানোর মতো নয়। ফলে এ সময়ে সমাজের সামর্থ্যবান, সচ্ছল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা উচিত। খাবার এবং গরম কাপড় দিয়ে এদের সহায়তা করা উচিত। শীতের এই সময়টায় শিশু এবং বৃদ্ধদের শারীরিক কষ্ট বেড়ে যায় বেশি। জ্বর, ঠা-া, সর্দি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের প্রকোপ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। শিশু এবং বৃদ্ধদের প্রতি এ সময় আলাদা নজর রাখা জরুরি। ইতোমধ্যে যারা হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছেন তাদের সঠিক চিকিৎসা যাতে হয় সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজরও থাকতে হবে।
প্রকৃতির খামখেয়ালি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আমাদের নেই। তবে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আমাদের দেশের অনেকেরই রয়েছে। দেশের প্রত্যেকটি জেলায় যার যার অবস্থান থেকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই এখন সবার মূল কর্তব্য। খাবার কিংবা গরম কাপড় যা-ই হোক- তা নিয়েই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শীতার্ত মানুষের কষ্ট নিশ্চয়ই লাঘব হবে বলে আমরা মনে করি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।