শিথিল হচ্ছে লকডাউন, চলবে বাস ট্রেন লঞ্চ

32

স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলবে শপিংমল-মার্কেটসহ সব দোকানপাট, আজ প্রজ্ঞাপন
সমীকরণ প্রতিবেদন:
ঈদের আগে শিথিল হচ্ছে লকডাউন নামে পরিচিতি পাওয়া চলমান কঠোর বিধিনিষেধ। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু প্রতিদিন বেড়ে চললেও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। ১৫ জুলাই থেকে বাস ট্রেন লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহন স্বাস্থ্যবিধি মেনে আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলতে পারবে। ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে আবার কঠোর লকডাউন দেওয়া হবে। গতকাল সোমবার সরকারি তথ্য বিবরণীতে লকডাউন শিথিলের কথা জানানো হয়। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার।
চলমান লকডাউন ১৪ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, ১৫ থেকে ২২ জুলাই সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহনসহ সব ধরনের যন্ত্রচালিত যানবাহন এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করতে পারবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শপিংমল, মার্কেটসহ সব দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। তবে যেসব এলাকায় করোনা পরিস্থিতি বেশি খারাপ, সেখানে স্থানীয়ভাবে লকডাউন থাকতে পারে। যেখানে গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য বিধিনিষেধ থাকতে পারে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, পরিবহন ও শপিংমল-দোকানপাটে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কাজে নিয়োজিত। লকডাউনে তাদের রোজগার বন্ধ রয়েছে। ঈদ কেনাবেচার প্রধান মৌসুম। পরিবহনখাতেরও ব্যবসার প্রধান সময় ঈদের আগে পরে। এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন শিথিল হলে কর্মহীনরা কিছু উপার্জন করতে পারবেন। শপিংমল-দোকানপাট রোজার ঈদের আগে যে নিয়মে খোলা ছিল, এবারও তাই থাকবে। গত বছর থেকে ঈদ ও পহেলা বৈশাখে বন্ধ রয়েছে পর্যটন কেন্দ্রগুলো। এতে পর্যটন ব্যবসায়ীরা হাজার কোটি লোকসান করেছেন। আসন্ন ঈদে পর্যটন কেন্দ্রগুলোও স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হবে। লকডাউন শিথিল করার পেছনে ধর্মীয় কারণও রয়েছে। কোরবানির পশুর হাটের জন্যও চলাচলে বিধিনিষেধ শিথিল করা প্রয়োজন। কয়েক লাখ খামারির সরাসরি জীবিকা অর্জিত হয় কোরবানির মৌসুমে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ) শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, চলমান বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় রোজার ঈদের মতো এবার চলাচলে সমস্যা হবে না। ঈদের পর আবার কঠোর লকডাউন দেওয়া হবে। বিধিনিষেধ কতটা শিথিল হবে, তা আজ মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত জানানো হবে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, গত ঈদের সময় লকডাউন জারি করেও গ্রামমুখী মানুষের ঢল থামানো যায়নি। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা, ফেরিতে গাদাগাদি করে কোটি মানুষ শহর ছাড়েন। এতে করোনা ঝুঁকি আরও বেড়েছিল। গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহন করলেও এ ঝুঁকি কমবে। ১৫ জুলাই থেকে ট্রেন চালুর কথা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। সারাদেশে প্রতিদিন ১০২টি আন্তঃনগরসহ সাড়ে তিনশ’ যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। গত মে মাসে বিধিনিষেধ শিথিলের পর দুই ধাপে ৩৩টি আন্তঃনগর ট্রেন চালু হয়েছিল।
রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী বলেন, এবার কতগুলো ট্রেন চালু করা সম্ভব হবে, তা মঙ্গলবার বলা যাবে। আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নেওয়া হবে ট্রেনে। সব টিকিট বিক্রি হবে অনলাইনে। ১৫ জুলাইয়ের ট্রেনের টিকিট মঙ্গলবার বিকেল থেকে বিক্রি শুরুর চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজশাহী, খুলনা, যশোরসহ যেসব এলাকার করোনা পরিস্থিতি খারাপ, সেখানে ট্রেন নাও চলতে পারে।
সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুরু মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ১৫ জুলাই দূরপাল্লার এবং নগর পরিবহনের বাস কীভাবে চলবে, তা প্রজ্ঞাপন জারির পরই বলা যাবে। সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, আমরা জানতে পেরেছি ১৫ জুলাই থেকে বাস চলবে। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহনের দিকে মালিক সমিতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (যাত্রী ও পরিবহন) শেখ মো. নাসিম বলেন, তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, গণপরিবহন চলবে। তার মানে লঞ্চও চলবে। কীভাবে চলবে, তা প্রজ্ঞাপন জারির পর ঠিক হবে।
দোকান মালিক সমিতির মহাসচিব জহিরুল হক ভূঁইয়া বলেন, সারাবছরে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ঈদে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলার সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। ঈদের আগে খুললে কর্মচারীদের কিছু বেতন-ভাতাও দেওয়া যাবে।
এদিকে করোনা সংক্রমণ রোধে সব সরকারি অফিসের দাপ্তরিক কাজ ভার্চ্যুয়ালি (ই-নথি, ই-টেন্ডারিং, ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য মাধ্যমে) সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোরবানির পশু অনলাইনে কেনাবেচার অনুরোধ জানিয়েছে মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
করোনা সংক্রমণ রোধে গতবছরের ২৫ মার্চ থেকে ৩১ মে সারাদেশে লকডাউন ছিল। সংক্রমণ ও মৃত্যু বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছরের ৫ এপ্রিল থেকে কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ‘সীমিত, কঠোর ও সর্বাত্মক’ লকডাউন চলে ২২ মে পর্যন্ত। রাজধানীকে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে ২২ জুন থেকে ঢাকার পার্শ্ববর্তী সাত জেলায় চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিন্তু করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলায়, ১ জুলাই থেকে সারাদেশে আবার বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার।