চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিক্ষা খাতে দুর্নীতি : মন্ত্রী দায় এড়াতে পারেন না

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৮, ২০১৭ ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতার সম্পর্ক ওতপ্রোত। বলা হয়ে থাকে, নৈতিকতাহীন শিক্ষা কুশিক্ষার নামান্তর। উদ্বেগের বিষয় হল, দেশের শিক্ষা খাত ঘুষ-দুর্নীতি তথা অনৈতিকতায় আকীর্ণ। এটি গোটা জাতির জন্য একটি অশনিসংকেত। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সুপারিশে এবং শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় শিক্ষা প্রশাসনে অনিয়ম-দুর্নীতি ও হয়রানির ভয়াবহ সব তথ্য উঠে এসেছে। বস্তুত শিক্ষা খাতে ব্যাপক দুর্নীতির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই একরকম ‘ওপেন সিক্রেট’। এটি এখন আর সংশ্লিষ্টদের অস্বীকার করার উপায় নেই। খোদ শিক্ষামন্ত্রীর এক বক্তব্যেও মনে হয় তিনি বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। গত রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘দায়িত্ব নেয়ার পর সব সংস্থার সঙ্গে আমি বসেছি। তখন বলেছি, দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। সব জায়গায় এ কথা বললেও ইইডির (শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর) সভায় বলেছি, আপনারা ভালো কাজ করবেন। আপনারা ঘুষ খাবেন, কিন্তু সহনশীল হয়ে খাবেন। কেননা আমার সাহসই নাই বলার যে, আপনারা ঘুষ খায়েন না।’
মন্ত্রীর এ বক্তব্যের নিহিতার্থ কি তবে দুর্নীতিবাজদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ? তার এ বক্তব্য সম্পর্কে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘ব্যবস্থা নেয়ার মালিক মন্ত্রী। তিনি দায়িত্বশীল ব্যক্তি। তিনি এমন বক্তব্য দেয়ার অর্থই হচ্ছে, ঘুষ মেনে নিলেন তিনি। এটা পারেন না। দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য এটা। এতে বোঝা যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে।’ প্রকৃতপক্ষে উদ্বেগের জায়গা এটাই। কারণ এর ফলে বড় হয়ে যে প্রশ্নটি দেখা দিচ্ছে তা হল, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা কোন দিকে যাচ্ছে? শিক্ষা খাতে বিদ্যমান ঘুষ-দুর্নীতি যদি নির্মূল না করে বা নির্মূলে ব্যর্থ হয়ে তা মেনে নেয়া হয়, তাহলে কী দাঁড়াবে এর পরিণতি? দুর্নীতির কারণে শিক্ষক থেকে শুরু করে শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছেন। এই শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা তথা জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কী শিক্ষা পাবে? কী শিক্ষা পাচ্ছে? এ অবস্থাই কি চলতে থাকবে? বস্তুত শিক্ষা খাতে যে ভয়াবহ দুর্নীতি চলছে, শিক্ষামন্ত্রী তার দায় এড়াতে পারেন না। এ অবস্থা অব্যাহতভাবে চলতে দেয়া তার ব্যর্থতারই শামিল। শিক্ষামন্ত্রী যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পরিচয় দিতেই থাকেন, তাহলে তার উচিত পদ থেকে সরে যাওয়া।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন নানা কারণে বিতর্কের সম্মুখীন। দেশে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষায় গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। শিক্ষামন্ত্রী প্রথমে এ-সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে তা মেনে নিয়েছেন; কিন্তু এখনও তা রোধ করতে পারেননি। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ ও শিক্ষক হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ঘুষ না দিলে এমপিওভুক্তি, সরকারি স্কুল-কলেজে বদলি-পদায়ন, জাতীয়করণের কাজ ইত্যাদি ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না কাক্ষিত সেবা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক নিয়োগে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ আছে। বছরের শুরুতে দশম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই বিতরণ হয়েছে। তবে এসব বইয়ের কাগজ, মুদ্রণ ও বাঁধাই নিন্মমানের। এক্ষেত্রে এনসিটিবির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ, বরাদ্দ, কেনাকাটা, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ইত্যাদি ক্ষেত্রেও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ জোরালো। শিক্ষাব্যবস্থা- যার সঙ্গে নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ জাতি গঠনের প্রশ্ন জড়িত- সে খাতের এমন সর্বব্যাপী দুর্নীতি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা মনে করি, গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে শীর্ষ পর্যায় থেকে এদিকে দৃষ্টি দেয়া জরুরি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।